একটি গ্রামের কিশোর সোহেলের জীবনে ঘটে যায় এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। স্কুলের ব্যাকবেঞ্চে বসতে অভ্যস্ত, পড়ালেখায় উদাসীন কিন্তু দুঃসাহসী সোহেল বন্ধুদের নিয়ে একটি বাজি ধরে। অমাবস্যার রাতে শ্মশানকালী মন্দিরের বারান্দায় কাটানোর চ্যালেঞ্জ নেয় সে। বন্ধুদের ভয় আর নানা অজুহাত উপেক্ষা করে নির্ধারিত রাতে বাড়ি থেকে চুপিসারে বেরিয়ে পড়ে সোহেল। টর্চলাইট, কেডস জুতো আর বুড়াপীরের মাজার থেকে আনা পানি—সব কিছুই সঙ্গে নেয় সে। শ্মশানে পৌঁছে একটি কুকুরকে এড়িয়ে নির্দিষ্ট সমাধিস্তম্ভের কাছে যায়। প্রমাণ হিসেবে কিছু জিনিস রেখে আসার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সমাধির ভেতরে আবছা আলো আর ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো দেখতে এক দাড়িওয়ালা ব্যক্তি। নিজেকে ‘কম্পিউটার প্রোগ্রাম’ বলে পরিচয় দেয় ওই ব্যক্তি। সোহেলের আগ্রহ দেখে সে সরাসরি তার মাথায় ঢুকে পড়ে তথ্য সংগ্রহ করে। রবীন্দ্রনাথের কবিতা জিজ্ঞেস করলে সোহেল কোক স্টুডিওর একটি গানের লাইন বলে ফেলে। এআই সিস্টেমটি খুশি হয়ে সোহেলের মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। জ্ঞান হারানোর পর সকালে বন্ধুরা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। এরপর থেকে সোহেলের জীবন পাল্টে যায়। সে নিয়মিত ক্লাস করে, প্রথম বেঞ্চে বসে। দুষ্টুমি করলেও পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে ওঠে। এসএসসি ও এইচএসসি ভালো ফল করে সে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। প্রতিদিন শ্মশানপথ অতিক্রম করার সময় সেই রাতের ঘটনা মনে করে। তবে বন্ধুদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত কিছুই বলেনি সে। তার মা ছেলের পরিবর্তনে খুশি হয়ে শোকরানা নামাজ পড়েন। সোহেল নিজের ব্যাকবেঞ্চার দিনগুলো মাঝে মাঝে মিস করলেও ‘ফেক রবীন্দ্রনাথের’ প্রভাবে তার জীবন পুরোপুরি বদলে গেছে বলে মনে করে।