আয়কর নথি নিরীক্ষা থেকে অব্যাহতির লোভ দেখিয়ে করদাতাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে একটি প্রতারক চক্র। এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রোববার সকালে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এনবিআর জানিয়েছে, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে এক শ্রেণির প্রতারক করদাতাদের কর নথি নিরীক্ষায় পড়ার তথ্য দিয়ে বিভিন্ন মুঠোফোন নম্বর থেকে যোগাযোগ করছেন। তারা নিরীক্ষা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বা আইনি জটিলতার ভয় দেখিয়ে করদাতাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ দাবি করছেন এবং অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এনবিআর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী করদাতার কর নথি নিরীক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বর বা অননুমোদিত মাধ্যমে যোগাযোগ করেন না। নিরীক্ষার জন্য কোনো ফাইল নির্বাচিত হলে তা আইনানুযায়ী আনুষ্ঠানিক লিখিত নোটিশের মাধ্যমেই করদাতাকে জানানো হয়। করদাতাদের জন্য চারটি নির্দেশনা দিয়েছে এনবিআর।
প্রথমত, লিখিত নোটিশ ছাড়া কোনো যোগাযোগ বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এনবিআরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী ব্যক্তিগত মুঠোফোন বা অননুমোদিত মাধ্যমে কর নথি নিরীক্ষা নিয়ে যোগাযোগ করেন না। নিরীক্ষার জন্য ফাইল নির্বাচিত হলে তা আইনানুযায়ী আনুষ্ঠানিক লিখিত নোটিশের মাধ্যমে করদাতাকে জানানো হয়। দ্বিতীয়ত, আর্থিক লেনদেনে সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। করসংক্রান্ত যেকোনো বকেয়া কর বা ফি শুধু সরকারি চালানের মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হয়। কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তি করদাতার কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে, বিকাশ, রকেট, নগদ বা অন্য কোনো মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার এখতিয়ার রাখেন না। তৃতীয়ত, তথ্য যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কোনো সন্দেহজনক ফোন কল, খুদে বার্তা বা ই-মেইল পেলে বিভ্রান্ত না হয়ে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের উপকর কমিশনারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে সত্যতা যাচাই করার অনুরোধ করা হয়েছে। চতুর্থত, আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। কোনো প্রতারক চক্র যদি এনবিআরের কর্মকর্তা সেজে অর্থ দাবি করেন, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে (পুলিশ) অবহিত করতে এবং প্রতারকের ফোন নম্বরটি সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এনবিআর জানিয়েছে, তারা করদাতাদের হয়রানিমুক্ত ও স্বচ্ছ সেবা প্রদানে বদ্ধপরিকর। কোনো অবস্থাতেই এ ধরনের প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে কোনো আর্থিক লেনদেন না করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে, এ পর্যন্ত তিন দফায় নিরীক্ষায় পড়া করদাতার সংখ্যা এক লাখ পেরিয়েছে। সর্বশেষ গত ২৯ জুন ৫ হাজার ১৪ জন করদাতার আয়কর নথি নিরীক্ষার জন্য বাছাই করেছে এনবিআর। প্রথম দফায় গত বছরের জুলাইয়ে ১৫ হাজার ৪৯৪ করদাতার রিটার্ন নথি নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল। গত এপ্রিলে দ্বিতীয় দফায় ৭২ হাজার ৩৪১ করদাতার রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়। সম্পূর্ণ অটোমেটেড পদ্ধতিতে ২০২৩–২৪ করবর্ষের জন্য জমা দেওয়া রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য বিবেচনা করা হয়েছে।
কোনো করদাতা জানতে পারেন তার রিটার্নটি নিরীক্ষায় পড়ল কি না, তার জন্য এনবিআরের ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখানে নিরীক্ষার জন্য যাদের রিটার্ন বাছাই করা হয়েছে, সেই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এক্সেল শিটে দেওয়া ওই তালিকা ধরে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) দিয়ে সহজেই খুঁজে পাওয়া যাবে।




