জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন হত্যকাণ্ডের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতাকে পাঁচ দিনের জন্য রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের এজলাসে শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করা হয়।
আসামি আবদুস সোবহান কাজী, যিনি যুবলীগের উত্তরা থানা সহ-সভাপতি এবং ফরিদপুর জেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের আহ্বায়কের দায়িত্বেও ছিলেন। মামলাটি তদত্ব করছেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মৃত্যুঞ্জয় পণ্ডিত মিঠুন। তিনি প্রাথমিকভাবে আসামিকে সাত দিনের জন্য হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে আদালত শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ডের নির্দেশ দেন।
প্রসিকিউশনের উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দীন জানিয়েছেন যে সোবহান কাজী এই মামলার ১৪ নম্বর আসামি। আদালতের পক্ষ থেকে তার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি। মামলার নথি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের আন্দোলনের সময় রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার আওতাধীন এলাকায় একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। শান্তিপূর্ণ ছাত্র-জনতার মিছিলে সেদিন হামলা চালানো হয় এবং গুলি বর্ষণ করা হয়। ওই আক্রমণে আল আমিন খলিফা নামের এক ব্যক্তি প্রান হারান এবং আরও অনেকে গুরুতর জখম হন।
এ ঘটনার পর নিহত আল আমিন খলিফার পিতা বাদল খলিফা বাদী হয়ে ওই বছরের ১৩ নভেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। রিমান্ডের আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন যে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামি ঘটনার বিষয়ে এবং পলাতক অবস্থায় থাকা কয়েকজন আরজিত সম্পর্কে কিছু তথ্য প্রদান করলেও, তাদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হননি। তাই অভিযুক্তের দেওয়া নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই এবং মামলার অন্যান্য পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তকরণ এবং গ্রেফতারের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে এনে জেরা করা একান্ত আবশ্যক।
উল্লেখযোগ্য যে, ৪ আগস্ট গভীর রাতে বনানী থানার আওতায় স্টেশন অফিসার্স মেস এর পাশের একটি ফ্ল্যাট থেকে সোবহান কাজীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযানকালে তার কাছ থেকে একটি টয়োটা হ্যারিয়ার গাড়ি, দুটি আইফোন, এবং তার নামে ইস্যু করা মোট পাঁচটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়।




