বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন, শেখ হাসিনা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও ঘৃণিত ফ্যাসিস্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। বুধবার রাজধানীর গুলশানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও গত ১৭ বছরের আন্দোলনের একটি চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী উল্লেখ করেন, পৃথিবীর নৃশংস ফ্যাসিস্ট ও নাৎসিরা জোরপূর্বক ক্ষমতায় টিকে থাকলেও তাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। তিনি বলেন, নাৎসি নেতা হিটলার ও মুসোলিনির মতো ফ্যাসিস্টরা জাতিগত নিপীড়নের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করলেও তারা নিজ নিজ জাতিকে বিশ্বের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছিলেন। অন্যদিকে, শেখ হাসিনার মূল লক্ষ্য ছিল সমগ্র জাতিকে লুণ্ঠন করে নিজের আত্মীয়স্বজনকে বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত করা। রিজভীর ভাষ্য, হিটলার বা মুসোলিনি শেখ হাসিনার মতো টাকা পাচার, ব্যাংকের অর্থ লুট, শেয়ারবাজার লুণ্ঠন কিংবা সরকারি জমি দখল করেনি। তারা ভয়ংকর খুনি হলেও নিজ দেশের প্রতি তাদের ভালোবাসা ছিল, যা শেখ হাসিনার মধ্যে ছিল না বলেই তিনি ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ফ্যাসিস্ট হিসেবে গণ্য হবেন।

রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে এক বিশেষ চোরা পথে ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটে এবং বাংলাদেশেও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটেছিল বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে আওয়ামী লীগ জনগণের রক্ত ঝরাতে দ্বিধা করেনি। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন রিজভী। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে কোলের শিশুও নিহত হয়েছে। রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি, ফলের দোকানের কর্মচারী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রিজভী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে এক বিশাল জাগরণ এবং অত্যাচারীর বিরুদ্ধে জনগণের ভেতরে সুপ্ত শক্তির পারমাণবিক বিস্ফোরণ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, জনগণের এই শক্তি শেখ হাসিনা উপলব্ধি করতে পারেননি বলেই তিনি বারবার ভুয়া ও পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছেন। বিশ্বের দু-একটি দেশ ছাড়া কেউ সেই সরকারকে সমর্থন করেনি, তবু তারা জোর করে ক্ষমতায় ছিল। শেষে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার যে গণতান্ত্রিক প্রত্যয় রয়েছে, তা বাস্তবায়নে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যেভাবে লড়াই করেছেন, সেই লড়াইয়ে তাঁরা ভবিষ্যতেও শামিল হতে দ্বিধা করবেন না।