ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতা ও আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বুধবার এক সমাবেশে বলেছেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছিল, তা ক্ষমতার রাজনীতির কাছে জিম্মি হয়ে পড়ায় সেটি নষ্ট হয়ে গেছে। রাজধানীতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর কমিটি আয়োজিত এক সমাবেশ ও গণমিছিলে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এই অভিযোগ তুলেন। দলের এক সংবাদ বিবৃতি সূত্রে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আমিরের ভাষ্যমতে, জুলাই আন্দোলন-সংগ্রামে যে আত্মত্যাগ, আহত ও সহিংসতায় পরিবারগুলোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে এই ত্যাগের পেছনে যে অভীষ্ট লক্ষ্য ছিল, তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি মন্তব্য করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা কোনো মানবসৃষ্ট বিধি-ব্যবস্থার মাধ্যমে পূর্ণ হওয়া সম্ভব নয়। বৈষম্য দূর করা, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার সংরক্ষণে ইসলাম-ভিত্তিক ব্যবস্থাই একমাত্র কার্যকর সমাধান হিসেবে কাজ করতে পারে।
অনুষ্ঠানে দলের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান গুমের তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের হাতে ন্যস্ত করার সমালোচনা করে বলেন, এটি জুলাইয়ের চেতনার পরিপন্থী। তার কথা অনুযায়ী, অতীতের গুমকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। তিনি আরও যোগ করেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জনগণের প্রত্যাশা ছিল যে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীন ভূমিকা পালন করবে, কিন্তু বর্তমান প্রশাসন এখনও সে প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হয়নি।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় তিনি ঢাকাকে পৃথিবীর অন্যতম বসবাস-অনুপোযোগী শহর বলে আখ্যা দিয়ে বলন, নগরীর বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সামনের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের প্রার্থী জিতলে রাজধানীকে পরিকল্পিত ও বসবাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। কে এম শরীয়াতুল্লাহর সঞ্চালনায় এই সমাবেশে প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।




