বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি জীবনানন্দ দাশের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র ‘বনলতা সেন’। মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত এই ছবিতে কবির রহস্যময় মৃত্যুর সন্ধান করা হয়েছে। পঞ্চান্ন বছর বয়সে কলকাতায় একটি ট্রাম দুর্ঘটনায় জীবনানন্দের মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুকে কেউ কেউ আত্মহত্যা বলেও মনে করেন; ছবিটি সেই বিতর্কের দিকেও আলোকপাত করে।

জীবনানন্দ ছিলেন কবি কুসুমকুমারী দাশের সন্তান। তাঁর শৈশব কেটেছে স্বাচ্ছন্দ্যে, কিন্তু পরবর্তীতে অভাবের সংসারে তাঁকে সংগ্রাম করতে হয়েছে। লেখালেখিই ছিল তাঁর একমাত্র আশ্রয়। তাঁর কবিতার ভাষা ও শব্দচয়ন সময়ের তুলনায় অনেক এগিয়ে ছিল বলে মনে করা হয়। সমসাময়িক সমালোচকরা তাঁর কবিতাকে হেয়ালি বলে উড়িয়ে দিলেও বর্তমানে তা অমূল্য সম্পদ হিসেবে পরিগণিত।

চলচ্চিত্রটিতে জীবনানন্দের ব্যক্তিজীবন ও সাহিত্যকর্মের নানা দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী লাবণ্য দাশের লেখা ‘মানুষ জীবনানন্দ’ গ্রন্থ এবং আকবর আলী খানের ‘চাবিকাঠির খোঁজে’সহ বিভিন্ন গবেষণা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, তিনি সংসার জীবনে সুখী না থাকলেও বাবা হিসেবে ছিলেন অত্যন্ত স্নেহময়। তাঁর লেখা গল্প-উপন্যাসও রয়েছে, যা পরবর্তীতে সংগ্রহ করা হয়েছে।

ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার। এছাড়াও নাবিলা, সোহেল মন্ডলসহ অন্যান্য শিল্পীরা সাবলীল ও নিখুঁত অভিনয় করেছেন। সংগীত পরিচালনা করেছেন বাপ্পা মজুমদার। তাঁর সুর ও কবিতার আবৃত্তি দর্শকদের মনে দাগ কাটে। ক্যামেরার কাজও দুর্দান্ত; কিছু দৃশ্য দীর্ঘদিন মনে থাকে বলে দর্শকরা মন্তব্য করেছেন।

পথ প্রোডাকশনের ব্যবস্থাপনায় ছবিটি অস্ট্রেলিয়ায় প্রদর্শিত হচ্ছে। প্রবাসী বাংলাভাষী দর্শকরা এই চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। নির্মাতা বলেন, ‘জীবনানন্দের প্রতি আমাদের অন্যায়ের কিছুটা দায় শোধ করার জন্যই এই চলচ্চিত্র নির্মাণের ঝুঁকি নেওয়া।’ ছবির পাত্র-পাত্রী, সংলাপ ও আবহসংগীত সবকিছুই মিলে দর্শকদের জীবনানন্দের সময়ে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।