রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার অনুপামপুর কলোনিপাড়া গ্রামে শুক্রবার দুপুরে এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে। বেলা প্রায় একটার দিকে ঘটনার সূত্রপাত হয় ওই গ্রামের একটি বাড়ির উঠানে। সেখানে পুত্রবধূ তানিয়া বেগম (২৫) কাপড় শুকানোর তারে ভেজা গামছা মেলছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চাচি নাসরিন বেগম এবং দুই চাচাতো বোন—মীম ও কেয়া। হেসে কথা বলার মধ্যেই তানিয়া উঠানের তারের ওপর ভেজা কাপড় রাখেন। কিন্তু তারটি আগে থেকেই বিদ্যুতায়িত হয়ে ছিল, যা তিনি বুঝতে পারেননি। ভেজা কাপড়ের সংস্পর্শে আসামাত্রই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মুহূর্তে আনন্দের পরিবেশ বদলে যায় আতঙ্কে।

তানিয়ার এই আকস্মিক বিপর্যয় দেখে পাশের বারান্দায় গরুর জন্য ঘাস কুচি করছিলেন তাঁর শ্বশুর শমসের আলী (৬০)। তিনি দ্রুত দৌড়ে গিয়ে পুত্রবধূকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট তারটি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে তিনিও নিজে বিদ্যুৎস্পর্শের শিকার হন। ফলে একই বাড়ির দুজন—পুত্রবধূ ও শ্বশুর—মুহূর্তের মধ্যে প্রাণ হারানোর পথে এগিয়ে যান। স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে দুজনকে উদ্ধার করে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের উভয়কেই মৃত ঘোষণা করেন। নিহত তানিয়া বেগমের স্বামী শরীফুল ইসলাম। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

ঘটনাস্থল থেকে বিকেল চারটার দিকে চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, ওই সময় বাড়িতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তানিয়ার চাচি ও চাচাতো বোনেরা। হেসে-খেলে কথা বলার ফাঁকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা। হাসিমুখে কথা বলতে বলতে দুজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ওই বাড়িতে উপস্থিত হয়েছেন। নিহতদের স্বজনসহ সবাই লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের জন্য অনুমতি চাইছেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য তাকদিরুল ইসলাম জানান, বিদ্যুতের তারের ওপর ভেজা কাপড় দিতে গিয়ে প্রথমে পুত্রবধূ তানিয়া বেগম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টায় শ্বশুর শমসের আলীও একই পরিণতির শিকার হন। ঘটনায় সবাই মর্মাহত। তাই নিহতদের স্বজনসহ স্থানীয়রা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছেন। ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, হাসপাতাল থেকে লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হবে। এ ঘটনায় কারও কোনো অভিযোগ নেই বলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি দেওয়া হবে।