খুলনা প্রেসক্লাবের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে শুক্রবার আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত যুব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, দলটি কখনো স্পষ্ট করে বলেনি যে তারা গণভোট মেনে নেবে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি শুধু জুলাই সনদ মানার কথা বলে, কিন্তু সেই সনদে থাকা কিছু নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে বাকিটুকু মানতে চায়। তার মতে, ওই নোটগুলো বাদ দিলে সংবিধানের মূল কাঠামোতে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে না, যা মূলত তাদের কর্তৃত্ববাদী শাসন চালিয়ে যাওয়ারই কৌশল।
গণভোটের ফলকে খণ্ডিতভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, একই দিনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফলের মধ্যে একটিকে মেনে আরেকটিকে প্রত্যাখ্যান করা যায় না। তিনি একে এক মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া যমজ সন্তানের একজনকে স্বীকৃতি দিয়ে অন্যজনকে অস্বীকার করার সাথে তুলনা করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অর্থ হচ্ছে সব কটি সংস্কার প্রস্তাবই মেনে নেওয়া।
বিএনপির এই অবস্থানকে ‘মুনাফেকি’ ও ‘দ্বিচারিতা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ধানের শীষের প্রতীকে জয়লাভ করলে দলটির নেতারা সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পান, তাই তারা সেই ফলাফল মেনে নিতে আগ্রহী। কিন্তু গণভোটের ফল মানলে হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের সংবিধানের কাঠামো বদলে নতুন রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়তে হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর অসীম ক্ষমতা থাকবে না এবং রাষ্ট্রপতির সাথে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকবে। এ কারণেই তারা জুলাই সনদের কিছু অংশ বাদ দিয়ে মানতে চাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নতুন বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে চাঁদাবাজি, মাস্তানি, লুটপাট ও মাদকের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যা সমাজের জন্য বড় ব্যাধি। রাজনীতির নামে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে তরুণদের সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং এই সিন্ডিকেট ভাঙতে তাদের এগিয়ে আসতে হবে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় লোকজন নিয়োগের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে এভাবে নিয়োগের ফলে ঠিকাদারি, টেন্ডার ও অর্থ ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলে যাওয়াকেও তিনি রাজনীতির বড় ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তার মতে, এই মানসিকতার পরিবর্তন না ঘটলে জুলাই অভ্যুত্থানের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ সময় তিনি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি দলীয় পরিচয়ের কারণে জনপ্রতিনিধিদের কাজে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি মুকাররম আনসারী এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি মো. হামিদুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, যুব ও ক্রীড়া বিভাগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য মো. রাকিব হাসান।




