নতুন পণ্য আবিষ্কারে টিকটক শপ এখন শীর্ষস্থানীয় মাধ্যম হিসেবে উঠে এসেছে, কিন্তু ক্রেতারা সেই পণ্য কেনার জন্য প্রায়শই অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মেই ফিরে যান। সম্প্রতি টিকটক শপের পক্ষ থেকে পরিচালিত এক জরিপে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
ই-কমার্স খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকটক শপ মূলত একটি 'ডিসকভারি ইঞ্জিন' হিসেবে কাজ করছে। ছোট ব্র্যান্ডগুলোর জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি মাধ্যম, যেখানে তারা স্বল্প সময়ে প্রচুর মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে এবং তাদের পণ্যের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে পারে। প্ল্যাটফর্মটির স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও ও লাইভ স্ট্রিমিং সুবিধা নতুন পণ্য সম্পর্কে ধারণা দিতে দারুণ ভূমিকা রাখছে।
তবে জরিপের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, পণ্য দেখে মুগ্ধ হলেও কেনাকাটার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ক্রেতারা অ্যামাজনের মতো বড় প্ল্যাটফর্মকেই বেছে নিচ্ছেন। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অ্যামাজনের সুবিশাল পণ্য তালিকা, দ্রুত ডেলিভারি ব্যবস্থা, সহজ রিটার্ন নীতি এবং গ্রাহক রিভিউ ব্যবস্থা ক্রেতাদের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, টিকটক শপে পণ্যের মান নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকায় অনেক ক্রেতা ঝুঁকি নিতে চান না।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, টিকটক শপের মূল শক্তি হলো ভাইরাল কনটেন্টের মাধ্যমে একটি পণ্যের প্রচার। কোনো পণ্য ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর সেই পণ্যের চাহিদা হঠাৎ করে ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। কিন্তু সেই বর্ধিত চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে অনেক ছোট ব্র্যান্ড সরবরাহ ও গ্রাহক সেবার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে। ফলে ক্রেতারা নির্ভরযোগ্যতার জন্য বড় প্ল্যাটফর্মের দিকেই ঝুঁকে পড়েন।
তবে ছোট ব্র্যান্ডগুলোর জন্য টিকটক শপের গুরুত্ব যে কোনোভাবেই কম নয়। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই তারা ব্র্যান্ড সচেতনতা তৈরি করতে পারছে এবং নতুন গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে পারছে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য অপরিহার্য। অনেক ব্র্যান্ড এখন টিকটক শপকে একটি বিপণন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এবং অ্যামাজনের মতো প্ল্যাটফর্মে তাদের পণ্য তালিকাভুক্ত করে প্রকৃত বিক্রয় সম্পন্ন করছে। এই কৌশলটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তারা দুই জগতেরই সুবিধা পাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সামগ্রিকভাবে, টিকটক শপ পণ্য আবিষ্কারের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে, কিন্তু ক্রয়ের চূড়ান্ত ধাপে এখনও অ্যামাজনের আধিপত্য বজায় রয়েছে। ভবিষ্যতে টিকটক শপ যদি গ্রাহক সেবা ও সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও উন্নতি করতে পারে, তবে হয়তো বাজারচিত্রে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




