কুমিল্লার মেঘনা ও তিতাস উপজেলায় কাঁঠালিয়া নদীতে জেগে ওঠা একটি চরের দখল ঘিরে রোববার ব্যাপক সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এই সংঘর্ষে পাঁচটি গ্রামের মানুষ জড়িয়ে পড়ে এবং এতে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে কোহিনুর আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবজী নিহত হন। নিহত নারী মেঘনা উপজেলার চরবিনোদপুর গ্রামের কাফিল মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে চরবিনোদপুর, নন্দীরচর, দুধঘাটা, নতুন বাটেরা এবং পুরাতন বাটেরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এই দফায়-সংঘর্ষ শুরু হয়। কোহীনুর আক্তার গুরুতরভাবে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. তানভীর জানান, বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অন্তত ২৮ জন আঁহতকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। টেঁটাবিদ্ধ গুরুতর আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং রাত ১০টার পরও নতুন করে আনা হচ্ছে রোগী আসতে থাকার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেঘনা উপজেলার চরবিনোদপুর গ্রাম সংলগ্ন কাঁঠালিয়া নদীতে সম্প্রতি একটি চর জেগে ওঠে। এই গ্রামের লোকজন দাবি করেন, গত দুই দশক ধরে ওই জমির খাজনা তারাই পরিশোধ করে আসছেন এবং ফলত তারাই আইনগত মালিক। রোববার তিতাস উপজেলার নীলনা চরের দুই ব্যক্তি যখন ওই চরের জমি খারিজ করতে যান, তখন আলীপুর ও চরবিনোদপুরের বাসিন্দারা বাঁধা দেন। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে তারা ফিরে গিয়ে আশপাশের চার গ্রামের লোকজন সংগ্রহ করে চরবিনোদপুরবাসীর উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় প্রায় অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং টেঁটা ছুড়ে ও পিটিয়ে কমপক্ষে ৬০ জনকে আহত করা হয়।

চরবিনোদপুরের এক কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গ্রামবাসী নিরাপত্তাহীনতায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে রাত কাটাচ্ছেন। তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য মো. শাহ আলম ও দুধঘাটা গ্রামের মাদ্রাসাশিক্ষক জসিম উদ্দিনের বরাতে জানা যায়, চর দখল নিয়ে মূলত গোবিন্দপুর ইউনিয়নের চরবিনোদপুর এবং তিতাসের নতুন বাটেরা গ্রামবন্দিদের মধ্যে বিগত কয়েক মাসে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। রোববারের ঘটনায় মেঘনার আলীপুর গ্রামের লোকজনও যুক্ত হয়ে দুপক্ষেরই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন বাটেরা গ্রামেরও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কোহীনুর আক্তারের লাশ সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। অধিকাংশ আহতই টেঁটাবিদ্ধ। খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।