ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক উদ্যোগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলো। জানা গেছে, ফিফার বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদারিত্ব আনার পরিকল্পনার জেরে বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে উয়েফা। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে উয়েফার পাঁচ দশমিক পাঁচ ডজন সদস্য অ্যাসোসিয়েশন এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দেয় বলে বিবিসি ও দ্য অ্যাথলেটিক-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামক একটি নতুন কাঠামো। এই প্রতিষ্ঠানের আওতায় ফিফার সমস্ত বাণিজ্যিক স্বত্ব ও টুর্নামেন্ট পরিচালনার দায়িত্ব একীভূত করার কথা বলা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রতিষ্ঠানের মোট মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার। ফিফা এই প্রতিষ্ঠানের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করছে। এই বিনিয়োগকারীদের তালিকায় রয়েছে জশুয়া কুশনারের প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটারনালও।

শুরু থেকেই এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল উয়েফা। তাদের বক্তব্য, ফুটবলের মৌলিক চেতনা ও পরিচালনা ব্যবস্থাকে কোনো পণ্যের মতো বিক্রি করা যায় না। এই বিরোধের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে বৃহস্পতিবারের সভায় ইউরোপীয় দেশগুলো আসন্ন বিশ্বকাপ বর্জনের পক্ষে মত দেয়। উল্লেখ্য, ফুটবল ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পরবর্তী বড় আসর হলো আগামী গ্রীষ্মে ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় নারী বিশ্বকাপ। এর পরেই রয়েছে ২০৩০ সালে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোয় অনুষ্ঠিতব্য পুরুষদের বিশ্বকাপ।

উয়েফার এই বর্জন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিশ্ব ফুটবলের দুই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টই সরাসরি সংকটে পড়তে পারে। ফিফার প্রস্তাবটি এখনো সদস্য দেশগুলোর অনুমোদন সাপেক্ষে রয়েছে, তবে উয়েফার এই কঠোর পদক্ষেপকে ফিফার ওপর একটি বড় চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। ফিফার সভাপতি কেন এমন একটি বিতর্কিত পথ বেছে নিয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।