দাঁতের যত্নে ব্রাশ করার কোনো বিকল্প নেই, কিন্তু সঠিক পদ্ধতি না মেনে চললে তা উপকারের বদলে ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই দাঁত ব্রাশের ভুল পদ্ধতি অনুসরণ করেন। দাঁত ও মাড়ির সুস্থতার জন্য সঠিক নিয়ম জানা অপরিহার্য।

একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো শক্ত ব্রিসলের ব্রাশ ব্যবহার করে জোরে জোরে দাঁত ঘষলে দাঁত বেশি পরিষ্কার হয়। বাস্তবে, এই পদ্ধতি মাড়ির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আঘাতপ্রাপ্ত মাড়ি থেকে রক্তপাত হতে পারে এবং দাঁতের শিকড় বেরিয়ে আসার মতো জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে। একইভাবে, অনেকেই ঘন ঘন ব্রাশ করেন, যা দাঁতের এনামেল বা উপরের আবরণ ক্ষয় করে দেয়। ফলে দাঁতে শিরশির অনুভূতি তৈরি হয় এবং দাঁত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। এছাড়া পুরনো ও বাঁকা ব্রিসলের ব্রাশ ব্যবহার করলে দাঁত ঠিকমতো পরিষ্কার হয় না, যা মুখের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

বেশির ভাগ মানুষ সকালে নাশতার পর দাঁত ব্রাশ করলেও রাতে ঘুমানোর আগে ব্রাশ করেন না। এই অভ্যাসের কারণে দীর্ঘক্ষণ দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে থেকে প্লাক ও ক্যালকুলাস জমে। এর ফলে মুখে দুর্গন্ধ তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে দাঁতে ক্যাভিটি বা ক্ষয় সৃষ্টি হয়, যা মারাত্মক ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি দাঁত নড়ে গিয়ে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।

দাঁত ব্রাশের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, নরম ব্রিসলযুক্ত ব্রাশ ব্যবহার করা উচিত। ব্রাশের মাথা ছোট হওয়া ভালো। ব্রাশটি দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থলে ৪৫ ডিগ্রি কোণে ধরে ধীরে ধীরে বৃত্তাকার গতিতে ঘুরিয়ে আলতো হাতে পরিষ্কার করতে হবে। জোরে চাপ দিয়ে বা সাইড টু সাইড মোশনে ব্রাশ করা এড়িয়ে চলতে হবে। প্রতিবার অন্তত দুই মিনিট সময় নিয়ে ব্রাশ করা জরুরি।

দিনে অন্তত দুইবার ব্রাশ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। সকালে নাশতার পর এবং রাতে শোবার আগে এই অভ্যাস মেনে চললে দাঁতের ফাঁকে খাদ্যকণা জমার সুযোগ থাকে না। দীর্ঘদিন একই ব্রাশ ব্যবহার না করে প্রতি তিন মাস পরপর ব্রাশ বদলে ফেলা উচিত, কারণ পুরনো ব্রাশের ব্রিসল কার্যকারিতা হারায়। দাঁতের পাশাপাশি জিহ্বা পরিষ্কার রাখাও মুখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাথরুমে ব্রাশ রাখা এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ সেখানে জীবাণু সহজেই ছড়াতে পারে। কোনো ভাইরাল বা সংক্রমণজনিত রোগ থেকে সেরে ওঠার পর অবশ্যই নতুন ব্রাশ ব্যবহার শুরু করা উচিত, কারণ পুরোনো ব্রাশে জীবাণু থেকে যেতে পারে।

ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস একজন ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন। তার চেম্বার ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বরে অবস্থিত আলোক ডেন্টাল কেয়ার ইউনিটে। তিনি রোগীদের সঠিক ব্রাশিং পদ্ধতি অনুসরণের পাশাপাশি নিয়মিত ডেন্টাল চেক-আপেরও গুরুত্ব দেন।