বিশ্বকাপ মিশন শেষে নরওয়ে ফুটবল দল দেশে ফিরেছে। ইংল্যান্ডের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর শনিবার তারা স্বদেশে পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় আর্লিং হলান্ডের হাতে ছিল একটি অস্বাভাবিক বস্তু—ট্যাক্সিডার্মি করা একটি রাকুন। এই ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। হলান্ডের এই অস্বাভাবিক সংগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে স্বাভাবিকভাবেই। তিনি কি উপহার পেয়েছেন? না, তিনি নিজেই এটি কিনেছেন। বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে হলান্ড বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেছেন। ডালাসের একটি পুরনো দোকান ওয়াইল্ড বিলস ওয়েস্টার্ন স্টোরে গিয়ে তিনি এই রাকুন ক্রয় করেন। এছাড়া ট্যাক্সিডার্মি করা একটি কাঠবিড়ালিও তার কেনাকাটার তালিকায় ছিল।
দোকানটির মালিক জুলি নিউপোর্ট জানান, রাকুনটি ৭৫০ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৯২ হাজার টাকা। দোকানে এটি 'হুইস্কি রাকুন' নামে পরিচিত ছিল। এর হাতে একটি জিনের খালি বোতল ছিল। দোকানটি প্রায় পাঁচ দশক ধরে ডালাসে পরিচালিত হচ্ছে এবং নানা ধরণের ট্যাক্সিডার্মি, কাউবয় বুট ও হ্যাটের জন্য বিখ্যাত। হলান্ড শুধু রাকুনই কেনেননি; সেখানে তিনি সাপের চামড়ার কাউবয় বুট এবং নিজের নামের আদ্যক্ষর ও জার্সি নম্বর সম্বলিত কাউবয় হ্যাটও সংগ্রহ করেন। তার ইউটিউব চ্যানেলে এই দোকান নিয়ে একটি ভ্লগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাতে তিনি দোকান ও সেখানকার মানুষদের অত্যন্ত ইতিবাচক ও জীবনমুখী বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, এই জায়গাটি তার খুব ভালো লেগেছে এবং তিনি আবার আসবেন।
হলান্ডের দোকানে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই অনলাইনে অর্ডারের বন্যা বইয়ে দিয়েছে ক্রেতারা। জুলি নিউপোর্টের ভাষ্যমতে, বর্তমানে তাদের কাছে প্রায় দুই হাজার অর্ডার জমা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের। পূর্বে দেশের বাইরে পণ্য পাঠানোর ব্যবস্থা না থাকলেও বর্তমানে তারা 'নাউ শিপিং ইন্টারন্যাশনালি' ঘোষণা দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য প্রেরণ শুরু করেছে। দোকানের জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়েছে যে এখন অনেক মানুষই সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন। অনেকে হলান্ডের মতো করে দোকানের সিঁড়িতে বসে ছবি তুলছেন। নিউপোর্ট দোকানের ভেতরে হলান্ডের একটি ছবি টাঙিয়ে দিয়েছেন, সেখানেও ছবি তুলছেন ক্রেতারা। এছাড়া হলান্ড দোকানে রাখা দুটি ফিফা ফুটবল এবং একটি টুপিতে অটোগ্রাফ দিয়েছেন।
সবশেষে, হলান্ড ১৩ জুলাই সামাজিক মাধ্যমে রাকুনসহ আরেকটি ছবি পোস্ট করেন। ক্যাপশনে তিনি মজা করে লেখেন, 'এটি আমাকে অনুসরণ করে বাড়ি চলে এসেছে'। ট্যাক্সিডার্মি বিশেষজ্ঞ জানান, এই ধরনের একটি তৈরি করা সময়সাপেক্ষ এবং দোকানের আগের সরবরাহকারী এখন অবসরে চলে যাওয়ায় দ্রুত নতুন করে তৈরি করাও সম্ভব নয়। তবুও হলান্ডের কারণে দোকানটি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে। দোকানটির আগের সবচেয়ে জনপ্রিয় পণ্য ছিল জেলি বিন। এখন হলান্ডের কেনা পণ্যগুলোই ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে সাত গোল করে হলান্ড তার অভিষেক আসরটি স্মরণীয় করে রেখেছেন।



