রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাকক্ষে গত সোমবার এক অনাড়ম্বর কিন্তু অর্থবহ অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। সেখানে ‘বাবার যত্নে’ শীর্ষক একটি ডিজিটাল গল্প-লেখা প্রচারাভিযানের নির্বাচিত বিজয়ীদের বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়। বিশ্ব বাবা দিবসকে সামনে রেখে ‘সুস্থ বাবা, নিরাপদ পরিবার’—এই স্লোগানকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই মানবিক উদ্যোগটি গ্রহণ করেছিল।

এই প্রচারাভিযানে অংশগ্রহণকারীরা পিতার প্রতি ভালোবাসা, স্মৃতি ও আবেগময় অনুভূতি প্রকাশ করে নিজেদের হৃদয়স্পর্শী গল্প জমা দেন। অসংখ্য লেখার মধ্য থেকে বাছাই করে পাঁচজনকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিতরা হলেন—সুমাইয়া জাহান (পিতা আহম্মেদ হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া); লাকী আক্তার (পিতা মোনতাজ উদ্দিন আকন্দ, গাজীপুর); তাইয়্যেবা তাসবিন (পিতা এস এম আতাউর রহমান, নারায়ণগঞ্জ); ফারিহা রিদিলা (পিতা ফারুকুল ইসলাম, ময়মনসিংহ) এবং কাজী মিলহা (পিতা কাজী মিজানুর রহমান, ঢাকা)। প্রত্যেক জয়ী সন্তান ও তাঁদের পিতারা অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন।

পুরস্কারের অংশ হিসেবে বিজয়ীদের হাতে বিশেষ উপহারসামগ্রী, অন্যান্য উপহার এবং একটি করে পূর্ণাঙ্গ বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্যাকেজ তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া, পিতাদের জন্য একটি বিশেষ স্বাস্থ্য কার্ড ইস্যু করা হয়, যা ব্যবহার করে তাঁরা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের প্রয়োজনীয় সব স্বাস্থ্যসেবায় অগ্রাধিকারভিত্তিক সুবিধা লাভ করতে পারবেন। এটি কেবল পুরস্কার বিতরণ নয়, বরং পিতৃস্বাস্থ্য ও পারিবারিক নিরাপত্তার প্রতি হাসপাতালের দীর্ঘমেয়াদি দায়বদ্ধতারও প্রকাশ বলে আয়োজকরা মনে করেন।

অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অনুকাব্য লেখক সাইদুজ্জামান রওশন (দন্ত্যস রওশন)। তাঁর বক্তব্যে পিতা-সন্তানের সম্পর্কের গভীরতা ও সামাজিক তাৎপর্য ফুটে ওঠে। সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এই উদ্যোগের প্রধান উদ্যোক্তা আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী, করপোরেট বিভাগের প্রধান নীতা চক্রবর্ত্তী, হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশিষ্ট চিকিৎসকগণ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা। পুরো আয়োজনটি সুষ্ঠুভাবে সঞ্চালনা করেন হাসপাতালের ব্র্যান্ড বিভাগের প্রধান সি এফ জামান।

এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল একটি প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটানোর পাশাপাশি পিতৃভক্তি ও স্বাস্থ্য সচেতনতার একটি শক্তিশালী সামাজিক বার্তাও ছড়িয়ে দিয়েছে। ‘সুস্থ বাবা, নিরাপদ পরিবার’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।