রাজধানীর গুলশান এলাকায় অবস্থিত কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন তৌফিক নেওয়াজ। মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিটে তাঁর প্রাণবায়ু নিভে যায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেত্রী দীপু মনির স্বামী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও লিভারের নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তৌফিক নেওয়াজ। সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে কয়েক দিন আগে তাঁকে কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এই মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছেন তাঁর আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম। তিনি আরও জানান, বেশ কিছুদিন ধরে রোগাক্রান্ত অবস্থায় ছিলেন তৌফিক নেওয়াজ; অবস্থা খারাপ হওয়ায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে।

কোথায় ও কখন দাফন এবং জানাজা অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। এ বিষয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে আইনজীবীর মাধ্যমে জানা গেছে। বর্তমানে পরিবারটি এই আকস্মিক বিয়োগের শোক সামলানোর পাশাপাশি পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক মামলার আসামি হয়ে বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী রয়েছেন দীপু মনি। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম। বুধবার সকালে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে এই আবেদন পেশ করা হবে। দীর্ঘদিনের রোগভোগের পর তাঁর এই প্রয়াণ পরিবারের জন্য গভীর বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দাফনের স্থান ও সময় নির্ধারিত হলে পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।