আগামী ৫ আগস্ট রাজধানীর পল্টন এলাকায় একটি সমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যজোট। জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ১০টায় মিন্টো রোডে অবস্থিত বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এই কর্মসূচির কথা জানান।
এর আগে সন্ধ্যা ৭টায় একই স্থানে ১১-দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে অংশ নেন এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুল মাজেদ আতহারী এবং বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন হামিদুর রহমান আযাদ। তবে খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।
বৈঠক শেষে হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের জানান, ২৫ জুলাই সিলেট বিভাগীয় সমাবেশের মধ্য দিয়ে ১১-দলীয় ঐক্যের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি শেষ হয়েছে। নতুন কর্মসূচি নির্ধারণের জন্য লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। আগামী ৩ আগস্ট বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের একটি বৈঠকে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে সম্প্রতি হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা ২০২৬’ কর্মসূচির সময় এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের ওপর বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। একইসঙ্গে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১১-দলীয় ঐক্য ও তার শরিক দলগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। তিনি সিলেট ও হবিগঞ্জে এনসিপির সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ন্যক্কারজনক বলে অভিহিত করেন।
তার মতে, কারও বক্তব্যে দ্বিমত থাকলে রাজনৈতিকভাবে তার জবাব দেওয়া সম্ভব। কিন্তু রাজনৈতিক বক্তব্যকে সন্ত্রাসী কায়দায় মোকাবিলা করা বিগত ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি মাত্র। সরকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে সরকার এখন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তিনি আরও বলেন, যুবদল, ছাত্রদল ও বিএনপির লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা এনসিপির ওপর হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এই জোট নেতা।




