ইয়েমেনের ভূখণ্ডে হুতি বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু করেছে সৌদি আরব। এই সামরিক অভিযানের পেছনে রয়েছে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুতি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক আক্রমণ। ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীটি সম্প্রতি লোহিত সাগরে কয়েকটি জাহাজে হামলা চালায়, যার জেরে সৌদি বাহিনী পাল্টা পদক্ষেপ নেয়।
হামলার সময় ইয়েমেন থেকে নিক্ষিপ্ত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে আটকাতে সক্ষম হয়েছে সৌদি বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। গ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি কোথায় লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়েছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি, তবে সৌদি ভূখণ্ডের দিকে এগুলো নিক্ষিপ্ত হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনাকে ইরান যুদ্ধের দ্বিতীয় ফ্রন্টে সংঘাত বৃদ্ধি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রথম ফ্রন্টে ইরানের ভূখণ্ডে সরাসরি যুদ্ধ চলছে, অন্যদিকে ইয়েমেন ও লোহিত সাগর অঞ্চলে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে দ্বিতীয় ফ্রন্ট তৈরি হয়েছে। গ্রিক সূত্র জানিয়েছে, এই ফ্রন্টে লড়াই ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
সৌদি আরবের এই সামরিক অভিযানকে ইরান-সমর্থিত শক্তির বিরুদ্ধে একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। লোহিত সাগর বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যেখানে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ও শিপিং শুল্ককে প্রভাবিত করতে পারে। ইতিমধ্যে তেলের বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জানা যাচ্ছে।
হুতি বিদ্রোহীরা ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে কাজ করছে এবং ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি জোটের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। সর্বশেষ এই হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র আটকানোর ঘটনা দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকে আরও উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এখন দেখা হবে, এই সংঘাত কীভাবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সম্পর্ককে প্রভাবিত করে।




