যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) শুক্রবার প্রকাশিত তথ্যে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৩১৮টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এই সংখ্যা ২০২৫ সালের মোট সংক্রমণের সংখ্যা—২ হাজার ২৮৯টি—অতিক্রম করে গেছে। গত বছর দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল।
আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের সভাপতি অ্যান্ড্রু রেসিন বলেন, ‘এটি একটি সংকট যা পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব ছিল। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। এটিকে আমাদের নতুন স্বাভাবিক বাস্তবতা হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয়।’ হামের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে জ্বর, শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গ এবং ত্বকে লালচে ফুসকুড়ি উল্লেখযোগ্য। তবে কিছু ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ও এনসেফালাইটিসের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের কারণে ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হাম নির্মূল ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় টিকাদানের হার কমে যাওয়া এবং জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রতি মানুষের আস্থা হ্রাস পাওয়ায় সংক্রমণ আবার ফিরে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে প্রাদুর্ভাব এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সাউথ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মেলিসা নোলান এএফপিকে বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, অনেক হামের সংক্রমণ শনাক্তই হচ্ছে না।’ চলতি বছর সাউথ ক্যারোলাইনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ নথিভুক্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘যেসব মানুষ সন্তানদের টিকা দেন না, সাধারণত চিকিৎসা নিয়েও তাঁদের মধ্যে দ্বিধা থাকে।’
যুক্তরাষ্ট্রে হামের টিকা বাধ্যতামূলক হলেও অনেক অঙ্গরাজ্যে ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কারণে অব্যাহতি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে টিকা না নেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নোলান বলেন, ‘সাউথ ক্যারোলাইনার মতো অনেক জায়গায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ রয়েছে যেখানে মানুষকে শেখানো হয় কীভাবে আইনি ছাড় পাওয়া যায়।’
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন পোস্ট ও কেএফএফের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ছয় মার্কিন অভিভাবকের একজন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা ও জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আস্থার অভাবে সন্তানদের টিকা দিতে চান না বা দেরি করেন। বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ ও রক্ষণশীল জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। নোলানের মতে, বর্তমান প্রাদুর্ভাব আরও বড় সংকটের সূচনা মাত্র। আগামী দিনে হুপিং কাশি ও অন্যান্য টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগের সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা।




