ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তরুণ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে যে বিক্ষোভ চলছে, তা সম্প্রতি দেশজুড়ে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ডাকে এ আন্দোলন শুরু হয়। তবে এখন তা তরুণ প্রজন্মের জমে থাকা নানা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশে পরিণত হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ২১ বছর বয়সী শিবম নামের এক শিক্ষার্থী জানায়, চাকরির বাজারের অনিশ্চয়তা তাকে এ আন্দোলনে যোগ দিতে বাধ্য করেছে। সে বলে, ‘আমার অনেক সিনিয়র এখনো চাকরি পাননি। কেউ ব্লিঙ্কিটে ডেলিভারি পার্টনার, কেউ র্যাপিডোতে গাড়ি চালাচ্ছেন। মা-বাবা সব সময় ভালো চাকরির আশা করেন। শেষ পর্যন্ত যদি আমাকে র্যাপিডোর চালক হতে হয়, তাহলে তা তাদের হৃদয় ভেঙে দেবে।’ শিবমের মা, যিনি ছেলেকে শক্ত করে ধরে ভিড়ের মধ্যে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, বলেন, ‘প্রত্যেক বাবা-মায়ের স্বপ্ন থাকে সন্তান পড়াশোনা করে সম্মানের সঙ্গে বাঁচবে। এখন ভয় হয়, যখন দেখি চাকরি না পেয়ে অনেকে আত্মহত্যা করছে। পাথরের মেঝেতে ঘুমিয়ে, পাখাবিহীন তাঁবুতে থেকে এসব তরুণ আন্দোলন করছে—এ দেখে বুক ভেঙে যায়।’
প্রথম দিকে আন্দোলন তেমন জোরালো ছিল না। কিন্তু সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অনশন থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পর হঠাৎ করেই বিক্ষোভের মোড় ঘুরে যায়। যে প্রজন্মকে প্রায়ই উদাসীন ও ভোগবাদী বলে সমালোচনা করা হয়, তারাই এখন মোবাইলের পর্দা ছেড়ে সরাসরি রাস্তায় নেমেছে। আন্দোলন এখন আর শুধু প্রশ্নপত্র ফাঁসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তরুণদের চাকরি, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বরাজ ইন্ডিয়ার সদস্য ও ভারত জোড়ো অভিযানের জাতীয় আহ্বায়ক যোগেন্দ্র যাদব বলেন, এই বিক্ষোভ বয়স্ক প্রজন্মকে তরুণদের সম্পর্কে ধারণা বদলাতে বাধ্য করছে। তাঁর মতে, ‘আমাদের মধ্যে ধারণা ছিল, কম বয়সীরা রাজনীতি নিয়ে খুব সচেতন নয়, তারা আরাম-আয়েশে বেশি মগ্ন। কিন্তু এটি পুরোপুরি ভুল। সমস্যা হলো, তাদের রাজনীতি বোঝার ভাষা ও প্রকাশভঙ্গি বোঝার চেষ্টা আমরা করিনি।’
গত ২০ জুলাই বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনের দিকে যাত্রা করলে পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে তাদের বাধা দেয়। এরপরও আন্দোলন থামেনি; বরং প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে। অনেক শিক্ষার্থী হাস্যরসাত্মক স্লোগান, মিম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের মাধ্যমে আন্দোলনকে প্রাণবন্ত রাখছে। কেউ আয়রন ম্যানের মুখোশ পরে এসেছে, কেউ স্পাইডার-ম্যান সেজে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বহু অভিভাবকও তাদের সন্তানদের সঙ্গে রাস্তায় নেমেছেন।




