ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস একটি অস্ত্র সমর্পণ চুক্তিতে সম্মতি দেওয়ার পরও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ এই অভিযানে গাজা সিটি, খান ইউনিস এবং দেইর আল-বালাহতে পৃথক স্থানে চালানো হামলায় কমপক্ষে আটজন ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন।
ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই বিমান হামলাগুলো সেখানে অবস্থানরত সামরিক সক্রিয়কর্মীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়। তাদের দাবি, উক্ত স্থানগুলোতে সন্ত্রাসী তৎপরতার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা সমবেত হয়েছিল এবং সেখান থেকেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনাস্থল থেকে যে তথ্য নিশ্চিত করেছেন, তাতে নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকও আছেন কিনা তা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তুপের নিচে আটকে পড়া লোকজনকে সরিয়ে আনতে রাতভর অভিযান চালান।
রবিবারের এই ঘটনা একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানা যায়, যা পরবর্তীতে এই মাসের ২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে হালনাগাদ করা হয়েছে। হামাসের রাজনৈতিক শাখার পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল যে তারা একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও অস্ত্র সমর্পণের প্রক্রিয়ায় রাজি হয়েছে, যার মধ্যস্থতায় ছিল আঞ্চলিক শক্তিগুলো।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই সম্মতির খবর প্রকাশিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনীর এই নতুন আক্রমণ সংঘাত নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত নাজুক হিসেবে বর্ণনা করছেন, কারণ একদিকে যেমন আতাত সমর্পণের উদ্যোগ চলছিল, অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বার্তা পাওয়া গেছে যে হামাসের সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস না করা পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে, এমনকি কোনো গোষ্ঠীর আংশিক অস্ত্র সমর্পণেও তাদের মূল লক্ষ্য পরিবর্তিত হবে না। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখনও প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা নিরূপণ করছে এবং সতর্ক করেছে যে মৃতের এই প্রাথমিক সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।



