চট্টগ্রামে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় একটি অভিনব প্রতারণার ঘটনা ধরা পড়েছে। আজ সোমবার (২৭ জুলাই) সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ কেন্দ্রে পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্র এবং খাদ্য ও পুষ্টি প্রথম পত্রের পরীক্ষা চলাকালে এক শিক্ষার্থীকে এআই-সহায়ক নকলের দায়ে আটক করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন ওই শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর গোপনে সেটির ছবি তোলে। পরে সে তার মুঠোফোনে থাকা একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অ্যাপে ছবিটি পাঠিয়ে উত্তর জেনে নেয়। এরপর পরীক্ষার কক্ষে বসে সেই উত্তর দেখে লিখতে থাকে। বিষয়টি কেন্দ্র পরিদর্শকের নজরে এলে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীর কাছে থাকা মুঠোফোনটি জব্দ করা হয়েছে এবং তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী নগরের একটি কলেজের মানবিক বিভাগের। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই পরীক্ষার্থী এআই প্রযুক্তির সাহায্যে নকল করছিলেন। এটিকে একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁকে বহিষ্কার ও মুঠোফোন জব্দ করার কথা জানান তিনি।

বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলার ১১৪টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ৭৭ হাজার ৫৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৫ হাজার ৭৩১ জন উপস্থিত ছিলেন। অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ৮২৫ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এ ছাড়া কক্সবাজারে ২৬৩ জন, খাগড়াছড়িতে ১৫৪ জন, রাঙামাটিতে ১০৯ জন ও বান্দরবানে ৯৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থার অবনতি এবং পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের বাকি পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছিল। তার আগে ৮ জুলাই থেকেই এই বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত ছিল। তবে একই সময়ে দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডে পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অব্যাহত রাখা হয়।