দক্ষিণ স্পেনের আলমেরিয়া প্রদেশে গত বৃহস্পতিবার ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজন ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় গণমাধ্যম ও এএফপির বরাত দিয়ে জানানো হয়, মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর স্পেনীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনায় মোট ১৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২ জনই বিদেশি।
কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহত সাতজন যুক্তরাজ্যের, তিনজন বেলজিয়ামের এবং একজন করে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থাটি জানায়, মৃত ১৩ জনের মধ্যে আটজন নারী ও পাঁচজন পুরুষ এবং সবাই প্রাপ্তবয়স্ক। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তরের একজন মুখপাত্র আগেই জানিয়েছিলেন যে তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিটিশ নাগরিক ও তাদের পরিবারকে সহায়তা করছেন এবং স্পেনীয় কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রেখেছেন।
দাবানলের কবলে পড়া বেদার গ্রামের বাসিন্দা ব্রিটিশ দম্পতি পিট ও ফ্র্যান গিলামের মৃত্যুর খবর তাদের পরিবার নিশ্চিত করেছে। শেফিল্ডে বসবাসকারী তাদের মেয়ে ড্যানিয়েল গিলাম-কির্টন ফেসবুকে লিখেছেন, পুলিশের কাছ থেকে বাবা-মায়ের বেঁচে না থাকার নিশ্চয়তা পেয়ে পরিবারটি বিধ্বস্ত। অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালানোর সময় আলমেরিয়া প্রদেশ থেকে প্রায় ১,৫০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বেদার গ্রামের ৭০ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক ম্যালকম টিমব্রেল দাবানল থেকে বেঁচে ফিরেছেন। পাহাড়ের ঢালে তার ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বিবিসিকে জানান, তার স্ত্রী ও বন্ধুরা নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। টিমব্রেল তার দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, "ছয়টি পরিত্যক্ত গাড়ির মধ্যে চারটি মুহূর্তেই জ্বলে ওঠে। একটি করে গাড়ি যখন পুড়তে শুরু করে, আমি আরেকটি গাড়ির দিকে সরে যাই। ভাগ্যের এক অদ্ভুত নিয়মে শেষ দুটি গাড়ি, যদিও প্রচণ্ডভাবে পুড়ে রং ফোসকা পড়েছিল, টিকে যায়। আর আমি শেষ গাড়িটির ভেতর একটি বিড়ালসহ বেঁচে যাই।"
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং তা প্রায় ৭,০০০ হেক্টর (১৭,৩০০ একর) ভূমি পুড়িয়ে দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্পেনে ঘন ঘন তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিচ্ছে, যেখানে তাপমাত্রা প্রায়শ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এদিকে ১৬ বছর বয়সী এলভি ড্রিংকওয়াটার মঙ্গলবার বাড়ি ফিরে তার পরিবারের দেখা ধ্বংসযজ্ঞের বর্ণনা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ডালাসে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে পরাজিত করে স্পেন ফাইনালে পৌঁছেছে। দলের পক্ষে গোল করেন মিকেল ওয়ারজাবাল ও পেদ্রো পোরো।


