জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ সোমবার রাতে সংসদ অধিবেশনে এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন সংসদ নেতা তারেক রহমানের পক্ষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। প্রস্তাব অনুযায়ী, কমিটির সদস্য সংখ্যা ১২ জন নির্ধারণ করা হয়, যদিও মূল পরিকল্পনায় এটি ১৭ সদস্যের হওয়ার কথা ছিল। বিরোধী দলের কাছে পাঁচজন সদস্যের নাম চাওয়া হলেও তারা কোনো নাম প্রদান করেনি। ফলে পাঁচটি পদ শূন্য রেখেই কমিটি গঠন করা হয়েছে, পরে বিরোধী দল নাম দিলে তা পুনর্গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ।
কমিটির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অন্যান্য সদস্যরা হলেন— বিএনপির চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন, মীর হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমিন, শাকিলা ফারজানা, মাহমুদুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. অলিউল্লাহ।
প্রস্তাব উত্থাপনের পরই বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের এই প্রক্রিয়া সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই চলছে। প্রথম অধিবেশনেই তারা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল কখনোই এ কমিটিতে নাম দেওয়ার কথা বলেনি। তারা জাতির কাছে ওয়াদাবদ্ধ— গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তারা সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। শফিকুর রহমানের মতে, এই কমিটি যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদকে বাইপাস করার জন্য গঠিত হয়, তাহলে তারা তা প্রত্যাখ্যান করছেন। তিনি বলেন, 'জনগণের অভিপ্রায় ও মতামতকে কোনোভাবেই অগ্রাহ্য বা অপমান করা উচিত নয়।' এরপর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
বিরোধের পটভূমি হিসেবে জানা যায়, জুলাই জাতীয় সনদ তৈরির জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে। সনদের ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান-সম্পর্কিত, যার মধ্যে মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপির ভিন্নমত রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে জুলাই সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো হুবহু বাস্তবায়নের পক্ষে। তারা এটিকে সাধারণ সংবিধান সংশোধন নয়, বরং 'সংবিধান সংস্কার' হিসেবে দেখছে। জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে 'হ্যাঁ' জয়ী হয়। গণভোটের ফল অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও কাজ করার কথা ছিল। তবে বিএনপি ও তাদের জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় পরিষদ গঠিত হয়নি। বিরোধী দলের সদস্যরা শপথ নিয়েছিলেন। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার নির্ধারিত সময় গত ১৫ মার্চ শেষ হয়েছে।




