চট্টগ্রাম নগরে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে চাঁদা না পাওয়ায় হামলা, ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের মামলায় আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে চকবাজার থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মোহাম্মদ ইউনুস, ইমরান হোসেন, আকবর হোসেন, মোহাম্মদ সুমন, মোহাম্মদ মনির, গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ নয়ন ও আবদুল নাহিদ।

বুধবার বিকেলে নগর পুলিশের দামপাড়া কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহমেদ জানান, গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার প্রত্যেকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক আইনে চার থেকে পাঁচটি করে মামলা রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার দুপুরে বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) নামের প্রতিষ্ঠানটিতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাতেই চকবাজার থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ অফিসে ঢুকে পড়ে। দেশি অস্ত্রধারীরা কম্পিউটার, কর্মচারীদের মুঠোফোন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। একজনকে কুড়াল দিয়ে সরঞ্জামে আঘাত করতেও দেখা যায়। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখানো হয়।

ঘটনার পর ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সদস্যরা গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। অন্যথায় চট্টগ্রাম বিভাগে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনও করেন বিভিন্ন ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

এদিকে গতকাল রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ‘ইমন’ পরিচয়ে একজনকে বলতে শোনা যায় যে তাঁরা ছুরি বা কিরিচ ব্যবহার করেন না, বরং তাঁদের হামলার ধরন চট্টগ্রামবাসীর জানা। এই প্রসঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, সন্ত্রাসীরা নিজেদের বাঁচাতে নানা ধরনের বক্তব্য দিয়ে থাকে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, অস্ত্রবাজির ঘটনায় জড়িত অনেককেই ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আটজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশ বলছে, তাঁদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে।