আন্তর্জাতিক গণিত কংগ্রেসের ২০২৬ সালের আসরে ফিলাডেলফিয়ায় তৈরি হলো নতুন অধ্যায়। জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে চার তরুণ গণিতবিদকে ফিল্ডস মেডেল দেওয়া হয়, যাদের মধ্যে ছিলেন ৩৫ বছর বয়সী চীনা গণিতবিদ হং ওয়াং। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে তিনি ফিল্ডস মেডেল ইতিহাসে তৃতীয় নারী এবং প্রথম চীনা নারী হিসেবে নাম লেখান। ১৯৩৬ সাল থেকে শুরু হওয়া এই পুরস্কার গণিতের নোবেল নামে পরিচিত। নোবেলের মতো প্রতিবছর না দিয়ে প্রতি চার বছর পরপর দেওয়া হয় এটি। পুরস্কার পাওয়ার জন্য বিজয়ীর বয়স ৪০ বছরের কম হতে হবে। এ পর্যন্ত মোট ৬৮ জন গণিতবিদ এই সম্মাননা পেয়েছেন, যার মধ্যে নারী মাত্র তিনজন।

হং ওয়াংয়ের জন্ম ১৯৯১ সালে চীনে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি পিকিং ইউনিভার্সিটির গণিত বিভাগে ভর্তি হন। পরবর্তীতে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় (এনওয়াইইউ) এবং ফ্রান্সের আইএইচইএস-এ অধ্যাপনা ও উচ্চতর গবেষণায় নিযুক্ত আছেন। তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্র হলো হারমোনিক অ্যানালাইসিস এবং জ্যামিতিক পরিমাপ তত্ত্ব।

গণিতবিশ্বে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে অমীমাংসিত ছিল ত্রিমাত্রিক কাকেয়া অনুমান। এই জটিল জ্যামিতিক সমস্যার সমাধান করে হং ওয়াং সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এই অনুমানটি হিসাব করে যে ত্রিমাত্রিক স্থানে একটি নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের সুই বা রেখাকে সব দিকে ঘোরাতে সর্বনিম্ন কতটুকু জায়গার প্রয়োজন। এই ধাঁধার নিখুঁত সমাধানই তাঁকে ফিল্ডস মেডেল এনে দিয়েছে।

ফিল্ডস মেডেলের নামকরণ করা হয়েছে কানাডীয় গণিতবিদ জন চার্লস ফিল্ডসের নামে। ১৯২০-এর দশকে তিনি আন্তর্জাতিক গণিত সম্প্রদায়কে একত্রিত করার উদ্যোগ নেন। এখন পর্যন্ত ফিল্ডস মেডেল পাওয়া নারীদের তালিকায় আছেন: ২০১৪ সালে ইরানের মরিয়ম মির্জাখানি (প্রথম নারী বিজয়ী), ২০২২ সালে ইউক্রেনের মেরিনা ভিয়াজোভস্কা (দ্বিতীয় নারী বিজয়ী) এবং ২০২৬ সালে চীনের হং ওয়াং (তৃতীয় নারী বিজয়ী)। হং ওয়াংয়ের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে গণিতের জটিল রাজত্বে নারীদের মেধা ও চিন্তাশক্তি নতুন দিগন্ত উন্মোচনে সক্ষম। গণিত শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য এটি এক অনুপ্রেরণার গল্প।