গত ১৩ জুলাই কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যার এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থীরা। অনেকে ভেজা পোশাকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধ্য হন এবং তিন ঘণ্টা পরীক্ষা দিতে হয়। এই ঘটনার পর কলেজটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। এর জেরে সম্প্রতি ওই কলেজের সাত শিক্ষককে বদলির আদেশ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বদলির এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত শনিবার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং তা প্রত্যাহারের দাবি জানান। তার পরদিনই রোববার (২৬ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপন জারি করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে ছয়জন নতুন শিক্ষককে পদায়ন ও বদলি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে মো. মোস্তফা সারওয়ার খানকে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে পদায়ন করা হয়েছে। তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) ওএসডি থেকে চৌমুহনী সরকারি সালেহ আহমেদ কলেজে কর্মরত ছিলেন। অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন মোহাম্মদ আশিকুর রহমান, যিনি মাউশিতে ওএসডি থেকে কুমিল্লার গৌরীপুর মুন্সী ফজলুর রহমান সরকারি কলেজে কর্মরত ছিলেন। নবীনগর সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল মতিনকে একই পদে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয়েছে। গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন মো. খালেদ ইকবাল জুয়েল, যিনি মাউশিতে ওএসডি থেকে বরুড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজে কর্মরত ছিলেন। ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন ইসরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া, যিনি মাউশিতে ওএসডি হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজে সংযুক্ত ছিলেন। এছাড়াও বরুড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. হাবিব উল্লাহকেও একই পদে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয়েছে।
কুমিল্লা মহিলা কলেজে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পরদিন ছয় শিক্ষকের পদায়ন
জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে বিতর্কের পর কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাত শিক্ষককে বদলির আদেশের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পরদিন নতুন ছয় শিক্ষককে পদায়ন ও বদলি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।




