দেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল, ইন্টেল ও স্যামসাংয়ের বিভিন্ন পণ্যের যন্ত্রাংশের নকশা এখন বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের হাতে তৈরি হচ্ছে। রাজধানীর নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’ সম্মেলনের শেষ দিনে রোববার এ তথ্য উঠে আসে। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে অংশ নেয় ৩৫টি প্রতিষ্ঠান। সম্মেলনটি আয়োজন করে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ।
বর্তমানে এ খাতে মোট প্রকৌশলীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ২০০। বিএসআইএ সচিব হাশিম আহমেদ জানান, তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখন ২২টি। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকৌশলীর সংখ্যা ১০ হাজারে এবং রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই খাতের রপ্তানি পরিমাণ ১০ মিলিয়ন ডলার, যা ২০৩০ সালে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে উল্কাসেমি। এই প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ৬০০ প্রকৌশলী কর্মরত। ঢাকার বাইরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, মালয়েশিয়া ও ভারতে তাদের কার্যালয় রয়েছে। তারা তাইওয়ানের বিশ্বখ্যাত সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের নকশা তৈরির অংশীদার। প্রতিষ্ঠানটির মিডিয়া পরামর্শক আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, অ্যাপলসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চিপ নকশা করছেন তারা। তবে এটিকে পরবর্তী ধাপে নিতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, কিন্তু প্রক্রিয়াগত জটিলতায় তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
আরেকটি বড় প্রতিষ্ঠান প্রাইম সিলিকন, যেখানে প্রকৌশলীর সংখ্যা ১২০-এর বেশি। প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ প্রধান প্রকৌশলী রেদওয়ান রহমান জানান, তারা ইন্টেল ও স্যামসাংয়ের চিপ নকশা করে থাকেন। এই খাতে দেশেই এখন ব্যাপক কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এআই পণ্যের জন্য যন্ত্রের নকশা নিয়ে কাজ করছে নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর। প্রতিষ্ঠানটির টিম লিডার শোয়েব শিকদার বলেন, তাদের ডিজাইন করা চিপে কম বিদ্যুৎ খরচ হয়। সাধারণত এআই চিপে প্রচুর বিদ্যুৎ লাগে। ক্যামেরা সেন্সরসহ বিভিন্ন ধরনের সার্কিট নিয়ে তারা কাজ করেন, যার অধিকাংশ ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্র।
প্রদর্শনীতে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানও নিজেদের উদ্ভাবন নিয়ে উপস্থিত হয়। বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট বাণিজ্যিক শৈবাল চাষের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে, যার উপকরণ ওষুধ, কসমেটিকস, সাবান ও শ্যাম্পু তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া নর্থ সাউথ, ডেফোডিল, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল, এশিয়া প্যাসিফিক প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে অংশ নেয়।




