বর্তমান সরকারের পাঁচ মাসের মেয়াদে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতেই দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও যুবদলের মাধ্যমে হামলা চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
নূরুল ইসলাম বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করায় চাঁদাবাজি ও কমিশনের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ছাত্রদল ওই প্রকল্পের বিরোধিতা করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ওই হামলায় জকসু নেতা, সাধারণ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও ছাত্রশিবিরের কর্মীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জবি ক্যাম্পাসের পর কবি নজরুল কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজে এবং পরে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ছাত্রদলের নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়, যেখানে সাধারণ রোগীরাও লক্ষ্যবস্তু হন। ঢাকা কলেজে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে দোয়া ও আহতদের সম্মাননা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির সময় ছাত্রদল হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হলেও বহিরাগত ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে বলে জানান ছাত্রশিবিরের সভাপতি।
কিছুদিন ধরে ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিদের বিনা উসকানিতে হামলার শিকার হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে নূরুল ইসলাম বলেন, শাহবাগ থানার ভেতর ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার মধ্য দিয়ে এই ধারাবাহিকতা শুরু হয়। তিনি অভিযোগ করেন, এই সব হামলার পেছনে সরকারের উচ্চ মহল থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে এবং প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।
ক্ষমতার মসনদ পিচ্ছিল উল্লেখ করে ছাত্রশিবিরের সভাপতি বলেন, ‘ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করলে ক্ষমতার মসনদে বেশি দিন টিকে থাকা সম্ভব হবে না। প্রধানমন্ত্রীর পতনের জন্য যুবদল–ছাত্রদলই যথেষ্ট হবে।’ তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে ছাত্রদলের সন্ত্রাসী সক্ষমতা যাচাইয়ের অপচেষ্টা তাদের জন্যই বুমেরাং হবে।
ছাত্রদলের হামলার বিচারের দাবিতে বুধবার সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত ছাত্র–গণজমায়েত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। হামলার ঘটনায় মামলা প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম জানান, আগের মামলাগুলোতে কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তারা নতুন করে মামলা করেননি; বরং প্রশাসনের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ, দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান, ছাত্র অধিকার সম্পাদক ও জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ কমিটির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর ফটকে এই হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রশিবির।


