ইংলিশ চ্যানেলে এক বিবিসি সাক্ষাৎকারের সময় ফ্রেঞ্চ নৌবাহিনীর একটি টহল জাহাজ থেকে ‘কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই’ গুলি চালানোর ঘটনা তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গত সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে (মধ্য ইউরোপীয় সময় ১০টা ১৫ মিনিট) ফ্রান্সের উপকূল থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে এই ঘটনা ঘটে। বিবিসির সাংবাদিক মাইকেল কেওহান ও ব্রিটিশ ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিল্প একটি মাছ ধরার নৌকায় সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন, এমন সময় কাছাকাছি অবস্থানরত ফ্রেঞ্চ যুদ্ধজাহাজ থেকে গুলি চালানো হয়।
সাংবাদিক কেওহান জানান, প্রায় ৩০০ মিটার দূর থেকে টহল জাহাজটি ১৭টি গুলি ছোড়ে। তিনি বলেন, ‘আমাদের নৌকার জন্য কোনো সতর্কতা বা ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি যে ফরাসি বাহিনী এমন কিছু করতে যাচ্ছে।’ গুলিগুলো কোথায় লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার সময় ফ্রেঞ্চ জাহাজের পেছনের দিকে এক নৌ কর্মকর্তাকে সমুদ্রের দিকে পিস্তল তাক করে থাকতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকেই গুলি চালানো হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত মৎস্যজীবী ম্যাট ককার জানান, তিনি এর আগে কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি। ফরাসি কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি ছিল একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ মহড়া এবং ব্রিটিশ নৌকার উপস্থিতির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের মতে, ব্রিটিশ নৌকাটি গুলি চালানোর সীমার বাইরে ছিল। তবে ক্রিস ফিল্প এই ব্যাখ্যা ‘অবিশ্বাস্য’ বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘লাইভ ফায়ারিং প্রশিক্ষণ সম্পর্কে কোনো পূর্ব ঘোষণা বা সতর্কতা ছিল না। এটি ইচ্ছাকৃত ভীতি প্রদর্শন ছাড়া আর কিছুই নয়।’
ফিল্প আরও বলেন, ‘এটি অত্যন্ত আশ্চর্যজনক যে ফ্রেঞ্চ নৌবাহিনী একজন ব্রিটিশ রাজনীতিকের বিরুদ্ধে তাদের জলসীমা রক্ষায় প্রকৃত গুলি চালাতে পারে, কিন্তু অবৈধ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া বন্ধ করতে ততটা সক্রিয় নয়। যদি ফ্রান্স মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আমার প্রতি দেখানো অর্ধেক সিরিয়াসনেসও দেখাতো, তাহলে নৌকাগুলো বন্ধ হয়ে যেত। পরিবর্তে, ফ্রান্স তাদের পাড়ি দিতে দিয়ে ব্রিটিশ কোস্টগার্ডের কাছে দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছে।’ তিনি জানান, বিষয়টি ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের কাছে উত্থাপন করবেন।
ঘটনার পর ব্রিটিশ হোম অফিসের এক মুখপাত্র জানান, ‘আমরা এই ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট বুঝতে ফরাসি কর্তৃপক্ষের সংস্পর্শে রয়েছি।’ উল্লেখ্য, এর আগে এই মাসের শুরুতেই প্লাইমাউথের ৪৬ মাইল দক্ষিণে একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ লাইভ-ফায়ার আর্টিলারি মহড়া চালিয়েছিল, যাকে ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনীর একটি জাহাজ অনুসরণ করছিল।
বিবিসির সাংবাদিক কেওহান ঘটনাটিকে ‘ইংলিশ চ্যানেলের নিস্তব্ধতার মধ্যে সবচেয়ে অস্বাভাবিক মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘সাক্ষাৎকারের মাঝখানে যখন গুলির শব্দ শোনা যায়, তখন বুঝতে পারিনি কী ঘটছে। এখনও স্পষ্ট নয় টহল জাহাজটি কী লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে।’ ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পিএসপি ফ্লামান নামের জাহাজটি অভিবাসী নৌকা পর্যবেক্ষণের কোনো অভিযানে নিয়োজিত ছিল না।




