ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান অবশেষে তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। শনিবার তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে 'ককরোচ জনতা পার্টি'র (সিজেপি) নেতৃত্বে বিক্ষোভ চলছিল তাঁর পদত্যাগের দাবিতে। সেই আন্দোলনের চাপেই তিনি সরে দাঁড়ালেন বলে মনে করা হচ্ছে।

পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান হিন্দি ভাষায় একটি চিঠি সামাজিক মাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, নিট-ইউজি পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক যাতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট না করে এবং 'দেশবিরোধী শক্তি' যাতে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সুযোগ না নেয়, তা নিশ্চিত করতেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। তিনি দাবি করেন, প্রথম দিন থেকেই তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং কোনোদিন পরিস্থিতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি।

পদত্যাগী মন্ত্রী মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার জটিলতার নৈতিক দায় নিজের কাঁধে নেন। তবে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থাগুলোর পক্ষেও জোরালো যুক্তি দেন তিনি। উল্লেখ করেন, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়ম ধরা পড়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর সরকার কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। বিতর্কিত পরীক্ষাটি বাতিল করে অতি দ্রুত নতুন পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল। ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন, 'দিল্লির যন্তর মন্তরসহ সারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশবিরোধী শক্তি যাতে এর সুবিধা নিতে না পারে, দেশের ঐক্য অক্ষুণ্ন থাকে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতায় না যায় এবং তারা পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গড়ায় মনোযোগ দিতে পারে—সেসব নিশ্চিত করতেই আমি পদত্যাগ করলাম।'

তিনি আরও দাবি করেন, গত ২১ জুনের পুনঃপরীক্ষা কেন্দ্র, রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সরকারি সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিদায়ী এই শিক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেন, পুরো বিতর্ক চলাকালে 'দায়িত্বশীল পদে আসীন কিছু ব্যক্তি' সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছেন। এটি তাঁকে 'গভীরভাবে ব্যথিত' করেছে। চিঠিতে তিনি কারো নাম উল্লেখ না করলেও গত কয়েক দিনে বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে তিনি রাজনৈতিকভাবে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন।

ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ তাঁকে ভীষণভাবে মর্মাহত করেছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি তাঁর 'ব্যক্তিগত মর্যাদার লড়াই' নয়; বরং শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা এবং দেশের ঐক্য বজায় রাখার তাগিদ থেকেই এই সিদ্ধান্ত। তরুণ সমাজ যেন 'ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তির ফাঁদে' না পড়ে, সেই আহ্বানও জানান তিনি।