ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সম্প্রতি এক বক্তব্যে বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর এই মন্তব্য দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা এতে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ হয়। বোস্টনে অবস্থানরত শিক্ষার্থী অভিজিৎ দিপকে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট দেন যেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘সব তেলাপোকা যদি এক হয়ে যায়, তবে কী হবে?’ এই একটি পোস্টের সূত্র ধরে কোটি কোটি তরুণ সাড়া দেয়। এর ফলশ্রুতিতে জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দিপকে নিজেই এই আন্দোলনের হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালায় পরিণত হন।

২৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তারা সরকারের শিক্ষানীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রতিবাদ জানান। সিজেপির উত্থান মূলত পুরোনো প্রজন্মের নীতির বিরুদ্ধে জেন-জি প্রজন্মের বিদ্রোহের বহিঃপ্রকাশ। ভারতের জাতীয় যোগ্যতা ও প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই তরুণরা আন্দোলনে নামে। তারা পুরোনো প্রজন্মের আরোপিত নিয়মনীতি মেনে নিতে রাজি নয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারেও প্রজন্মগত পার্থক্য স্পষ্ট। পুরোনো প্রজন্ম হোয়াটসঅ্যাপ নির্ভর, যা সরকারের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ। কিন্তু ইনস্টাগ্রাম নির্ভর জেন-জি প্রজন্মকে দমন করতে সরকার হিমশিম খাচ্ছে। তাদের কাছে এখন পেশিশক্তি ছাড়া আর কোনো কার্যকর অস্ত্র নেই। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুরোনো প্রজন্মের শাসকরা ক্ষমতা ছাড়তে না চাইলেও সময়ের সাথে তাল মেলানো জরুরি। সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার ভাষায় ‘এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান’—এই বাস্তবতা উপলব্ধি করাই এখন শাসকদের জন্য মঙ্গলজনক হবে।

সিজেপির নেতারা জানিয়েছেন, তারা তরুণদের মতামত শোনা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান। চাপিয়ে দেওয়া কোনো নীতি তারা মেনে নেবে না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘হাতির যন্তর মন্তর’ দিয়ে ‘তেলাপোকাদের’ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা। আন্দোলনকারীরা আশা করছেন, তাদের এই প্রতিরোধ ভারতের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।