শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. কামরুল হোসেন আজ সকালে প্রথম আলোকে জানান, ষোলশহরে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের বাসের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে যাতায়াতের এই ব্যাঘাতের মূল কারণ ছিল রেললাইনের জলাবদ্ধতা।

সকালে বটতলী স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া দুটি শাটল ট্রেন ষোলশহর স্টেশনে এসে থেমে যায়। প্রথম ট্রেনে ভ্রমণরত অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমানুর রহমান বর্ণনা করেন, ষোলশহরে পৌঁছানোর পর হঠাৎ ট্রেন থেমে গেলে যাত্রীরা প্রথমে বিভ্রান্ত হন। পরবর্তীতে জানা যায়, রেললাইনের ওপর পানি জমে থাকায় চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ক্লাসে অংশগ্রহণ করা তার পক্ষে আর সম্ভব হয়নি; বরং তাকে এবং তার মতো অন্যান্য শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে।

দ্বিতীয় ট্রেনটি সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে বটতলী ছেড়েছিল; সেটিও একই স্থানে আটকে পড়ে। প্রথম ট্রেনটি সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ছেড়েছিল এবং ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে পুনরায় শহরের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন ছাড়ার কথা ছিল, কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে সেই সময়সূচি ব্যাহত হয়।

ষোলশহর স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মো. মাঈন উদ্দিন জানান, ষোলশহর ও ক্যান্টনমেন্টের মধ্যবর্তী এলাকায় রেললাইনে প্রচুর পানি জমে রয়েছে। এ কারণেই শাটল ট্রেন চলাচল স্বাভাবিকভাবে চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পরিষেবা পুনরায় চালু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ফলে, নগরের বটতলী স্টেশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অভিমুখে যাত্রা শুরু করা শাটল ট্রেন পরিষেবা আজ সোমবার সকালে গুরুতর ব্যাঘাতের সম্মুখীন হয়। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ষোলশহর ও ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে জমে থাকা পানির কারণেই এই অচলাবস্থা সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।