ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে রোববার অনুষ্ঠিত হয়েছে এক আলোচনা সভা। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘স্মরণে জুলাই-ছাত্রদল ও অন্যান্য’ শীর্ষক এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন শাখা আহ্বায়ক মেহেদী হাসান এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন।
আলোচনায় মূল বক্তব্য রাখেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম। তিনি জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা সংরক্ষণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, এই আন্দোলনের ত্যাগ ও ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে জুলাইকে স্মরণীয় করে রাখা জরুরি। তাঁর মতে, ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতা-কর্মী ও সমর্থক এই আন্দোলনে প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। তাঁরা ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়েই রাজপথে নেমেছিলেন। একইসঙ্গে প্রায় ১৪০০ ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাকিবুল ইসলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। কঠিন পরিস্থিতিতে পুলিশি বাধা ও ছাত্রলীগের হামলা উপেক্ষা করে শাহবাগ অবরোধ কর্মসূচি সফল করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও দাবি করেন, বিগত দুই বছরে ছাত্রদল দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হল বা রুম দখল অথবা শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে বাধ্য করার মতো কোনো কাজ করেনি। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করে—এরকম কোনো কর্মসূচিও তারা পালন করেনি। জুলাই-আগস্টের শহীদদের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ছাত্রদল সভাপতি প্রতিজ্ঞা করেন, ভবিষ্যতে দেশের কোনো ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, দখলদারত্ব ও অপসংস্কৃতির রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না।
প্রধান অতিথি হামিদুর রহমান তাঁর বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রশংসা করে বলেন, তারা দেশের সব আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। তাদের অবদানকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টি এখনও যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দিন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।




