প্রচণ্ড গরমে অনেকেরই ক্ষুধা কমে যায় এবং ভারী খাবার খেতে ইচ্ছা করে না। ঘামের কারণে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও খনিজ লবণ বেরিয়ে যায়, যা পূরণ না করলে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। সাধারণত দিনে ছয় থেকে আট গ্লাস পানি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)। তবে গরমের সময় পানির চাহিদা বাড়তে পারে, যা ব্যক্তির বয়স, শারীরিক গঠন ও কাজের ধরনের ওপর নির্ভর করে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞানী ড. শার্লট মিলস।
শুধু পানি খাওয়াই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি পানিসমৃদ্ধ খাবারও গ্রহণ করতে হবে বলে মত দিয়েছেন অক্সফোর্ড ব্রুকস বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ড. আইসলিং ডেলি। তিনি বলেন, অধিকাংশ ফল ও সবজির ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই পানি। শসা, টমেটো, লেটুস, সেলারি, তরমুজ ও স্ট্রবেরিতে পানির পরিমাণ ৯০ শতাংশের বেশি। আপেল, গাজর, নাশপাতি, কমলা, আঙুর ও আনারসে পানির পরিমাণ ৮০ থেকে ৮৯ শতাংশ। সেদ্ধ ডিমেও ৭৫ শতাংশ পানি থাকে। শরীরে পানি স্বাভাবিক আছে কিনা বোঝার সহজ উপায় হলো প্রস্রাবের রং দেখা—হালকা হলুদ হলে স্বাভাবিক, গাঢ় হলুদ বা কমলা হলে পানিশূন্যতার লক্ষণ।
গরমের সময় চা বা কফি পুরোপুরি এড়ানোর প্রয়োজন নেই। ড. আইসলিং ডেলির মতে, গরম বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানীয় শরীর ঠান্ডা রাখতে ঠান্ডা পানির মতোই কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, গরম পানীয় খেলে দ্রুত ঘাম শুরু হয় এবং অতিরিক্ত তাপ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে পানিশূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই দিনে এক-দুই কাপ কফি বা চা নিরাপদ, কিন্তু বেশি না খাওয়াই ভালো। দুপুরে ভারী খাবার এড়িয়ে হালকা খাবার, ফল বা শরবত খাওয়া যেতে পারে।
অনেকে মনে করেন গরমে বেশি প্রোটিন খেলে শক্তি বাড়ে, কিন্তু পুষ্টিবিদেরা বলছেন উল্টো। ড. আইসলিং ডেলির ভাষায়, প্রচণ্ড গরমে শরীরের অতিরিক্ত প্রোটিনের প্রয়োজন নেই। বরং প্রোটিন হজম করতে বেশি শক্তি খরচ হয় এবং শরীরে তাপ উৎপন্ন হয়। তাই অতিরিক্ত গরু বা খাসির মাংসের বদলে হালকা ও সহজপাচ্য প্রোটিন বেছে নেওয়া ভালো। খাদ্যতালিকায় ডাল, ছোলা, ডিম, টক দই, টোফু, বাদাম, সেদ্ধ বা গ্রিল করা মাছ ও মুরগির মাংস রাখা যেতে পারে। এতে সামান্য পিনাট বাটার যোগ করলেও প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ে। মাছের মধ্যে রুই, কাতলা বা দেশি ছোট মাছ হালকা ও সহজপাচ্য।
গরমে সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র হলো পর্যাপ্ত পানি পান, পানিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ এবং সহজপাচ্য সুষম খাদ্য বেছে নেওয়া। অতিরিক্ত প্রোটিনের চেয়ে শরীর আর্দ্র রাখা ও হালকা খাবার খাওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।



