দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় গার্ল গ্রুপ টোয়াইসের সদস্যা জিহিও তাঁর নতুন গান ‘ডিস্ট্যান্ট লাভার’ প্রসঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। ড্যান্সহল শিল্পী শেনসির সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি এই ট্র্যাকটি শ্রোতাদের কাছে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা এনে দেবে বলে মনে করছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জিহিও জানান, এই গানের মাধ্যমে তিনি নিজের শিল্পীসত্তার আরেকটি দিক তুলে ধরতে চেয়েছেন। সঙ্গীতের ধারা ও ছন্দের মিশেলে ‘ডিস্ট্যান্ট লাভার’ একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জিহিওর মতে, কে-পপ জগৎ ক্রমাগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নতুন নতুন শিল্পী ও ঘরানার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে এই ধারা। তিনি বলেন, এখনকার কে-পপ আগের চেয়ে আরও বেশি পরীক্ষামূলক ও আন্তর্জাতিকমুখী হয়েছে। শেনসির মতো আন্তর্জাতিক শিল্পীর সঙ্গে কাজ করা তাঁর কাছে এক অনন্য শিক্ষা ছিল। এই সহযোগিতা তাঁকে সঙ্গীতের সীমানা ছাড়িয়ে ভাবার সুযোগ দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন জিহিও।

গত কয়েক বছর ধরে টোয়াইসের ব্যস্ত সময়সূচির পর জিহিও এখন একটু গতি কমানোর পরিকল্পনা করছেন। তিনি স্বীকার করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটানা কাজ করার ফলে কিছুটা ক্লান্তি এসেছে। তাই কিছুদিনের জন্য বিরতি নিয়ে নিজের ওপর মনোযোগ দিতে চান তিনি। ‘ডিস্ট্যান্ট লাভার’ প্রকাশের পরই তিনি এই বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান জিহিও। তাঁর ভাষায়, “একটি ভালো বিশ্রাম সৃজনশীলতাকে আরও উজ্জীবিত করে।”

শেনসির সঙ্গে এই গানটি তৈরি করতে পেরে জিহিও বেশ উচ্ছ্বসিত। ড্যান্সহল ও কে-পপের এই মেলবন্ধন শ্রোতাদের কাছে নতুন কিছু উপহার দেবে বলে তাঁর বিশ্বাস। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বিভিন্ন ঘরানার শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে তাঁর। তবে আপাতত ‘ডিস্ট্যান্ট লাভার’ নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চান জিহিও।

কে-পপের বিবর্তন প্রসঙ্গে জিহিও মনে করেন, এই শিল্প এখন শুধু এশিয়া নয়, গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। কোরিয়ান পপ সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে প্রভাব ফেলছে, তাতে তিনি গর্বিত। তাঁর মতে, কে-পপের সাফল্যের পেছনে শিল্পীদের কঠোর পরিশ্রম ও ভক্তদের অকুণ্ঠ সমর্থন কাজ করছে। ‘ডিস্ট্যান্ট লাভার’ সেই পথেই আরেকটি মাইলফলক হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।