গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার এবং আদালতের রায় অনুযায়ী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল পাঁচটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জুলাই স্মরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির নেতারা একইসঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরাগমন ঠেকানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল টিএসসি থেকে শুরু হয়ে ভিসি চত্বর, মধুর ক্যানটিন ও শাহবাগ ঘুরে পুনরায় টিএসসিতে এসে গিয়ে শেষ হয়। এতে অংশ নেন ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়ক নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে শেখ হাসিনার আর কোনো স্থান নেই। যেসব আওয়ামী লীগ নেতা খুন, গুম ও লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িত নন, তাদের প্রতি আহ্বান—জুলাইকে মেনে নিন। জুলাই মেনে নিলে আপনাদেরও ন্যায়বিচার মিলবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারকে অবিলম্বে ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের রায়’ কার্যকর করতে হবে এবং জুলাই মাসের মধ্যে প্রস্তাবিত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর চালু করতে হবে।

ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাদমান আবদুল্লাহ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার বক্তব্যের কথা শোনা যাচ্ছে। আমরা ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি। কিন্তু তার আগে যারা ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায় এবং আওয়ামী লীগকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, জনগণকে তাদের প্রতিহত করতে হবে।’

ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নেওয়াজ খান বাপ্পী বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার চেষ্টা না করাই ভালো। তিনি ফিরতে চাইলে শহীদদের রক্ত মাড়িয়ে ফিরতে হবে বলে মন্তব্য করেন। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অর্থের বিনিময়ে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির আড়ালে মিছিল করছেন বলে দাবি করেন তিনি।