প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দেশকে সিঙ্গাপুর কিংবা কানাডায় পরিণত করার অঙ্গীকার করবে না। বরং সমগ্র দেশকে বসবাসের উপযোগী ও স্বাস্থ্যকর করে তোলাই তাদের লক্ষ্য। শনিবার সাভারের বলিয়ারপুর এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি সিঙ্গাইরে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে যাওয়ার সময় সাভার-আরিচা মহাসড়কের একাংশে জমে থাকা বর্জ্য লক্ষ্য করেন। তিনি প্রতিমন্ত্রীকে তা দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্দেশ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করা হয়। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়, আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত ওই ১.৮ কিলোমিটার এলাকাকে সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ওই অংশটি কোনো নির্দিষ্ট পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের আওতায় ছিল না। উত্তর সিটি করপোরেশন এবং সাভার পৌরসভা — কেউই এর দায়িত্ব নেয়নি। ফলে 'অভিভাবকহীন' অবস্থায় যে যার ইচ্ছামতো সেখানে ময়লা ফেলেছে। তবে এখন সমন্বিত উদ্যোগে তা অপসারণ করা হচ্ছে। তিনি স্থানীয়দের অনুরোধ করেন, সাভার পৌরসভার নির্ধারিত ল্যান্ডফিলটিতে যেন তারা ময়লা ফেলেন। পৌরসভা রাস্তার অপর পাশে একটি নতুন ভাগাড় নির্মাণ করছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকার আগের সরকারের মতো 'বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানাব' বা 'কানাডা বানাব'—এই ধরনের প্রতারণামূলক অঙ্গীকার করবে না। তবে দেশে বসবাস ও নিশ্বাস নেওয়ার মতো একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসন সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি পুরো অংশটিতে বালু ও নেটিং দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি এবং নিমগাছের চারা রোপণ করা হবে, যাতে কেউ সেখানে পুনরায় বর্জ্য ফেলতে না পারে।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের নির্দেশে ১৫ ফুট উঁচু বালু দিয়ে নেটিং ও ব্যারিকেড প্রস্তুত করা হচ্ছে। উপস্থিত কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। এ সময় সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, কেরানীগঞ্জের ইউএনও মো. উমর ফারুকসহ স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




