রংপুর জিলা স্কুল মাঠে শনিবার সন্ধ্যায় ১১-দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী ভারত সীমান্তে নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সরকার এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব। জনগণ ও বিজিবি সদস্যরা প্রতিরোধে এগিয়ে এলেও সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে শফিকুর রহমান সরকারকে কঠোর ভাষায় বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তার পরিণতি সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকেই স্পষ্ট। তিনি আরও বলেন, গণভোট বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে এক চুলও সরে আসবেন না। আবু সাঈদের রক্তে ভেজা এই মাঠ থেকেই তিনি সেই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ফাঁসির দড়ি তৈরি আছে, তিনি যেকোনো সময় এলে তাকে ঝুলতেই হবে। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কেউ আর ফিরে আসতে পারে না।
নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সমালোচনা করে বলেন, সফরে তিস্তা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে কোনো অঙ্গীকার অর্জিত হয়নি। দেশে জাতীয় ঐক্যের অভাব থাকলে বিশ্বের কোনো দেশ থেকে সাহায্য পাওয়া সম্ভব নয়। তিনি রংপুর বিভাগের প্রতি বাজেটে বৈষম্যের অভিযোগ এনে বলেন, বিরোধী দলের আসন বেশি হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। বিরোধী এমপিরা সরকারি দলের এমপির বরাদ্দের তিন ভাগের এক ভাগও পান না।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলামের আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান, এনসিপির আখতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ পার্টির আসাদুজ্জামান, জামায়াতের মাওলানা আবদুল হালিম, জাগপার রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম বক্তব্য দেন। সমাবেশের শুরুতেও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।




