আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম শনিবার এক অনুষ্ঠানে স্পষ্ট করে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে দেশে ফেরার ঘোষণা নয়, বরং এখনই তার উপস্থিতি প্রয়োজন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামীকালকেই প্রয়োজন। কোনো রকম স্ট্যান্টবাজি বা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা চলবে না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অডিও-ভিজুয়াল প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, জুলাইয়ের বিদ্রোহে নিহত ও আহতদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশ একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা অর্জন করেছে। এই আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি দিতে হবে এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে ঘিরে কোনো ধরনের বিভেদ সৃষ্টি করা যাবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে চায় অথবা উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেশে ফিরতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য যাতে সফল না হয় সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

প্রসিকিউটর জানান, বর্তমান সরকারের সময়ে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে। তদন্ত ও বিচার কাজে গতি আনতে জনবল ও অবকাঠামো বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিচারের প্রশ্নে হতাশ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, ফাঁকা বুলি দিয়ে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর সময় শেষ। দেশের জনগণ আর কোনো কর্তৃত্ববাদী শাসন ফিরে আসতে দেবে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্যই বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর আরও জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় সংঘটিত অপরাধের বিচার শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে নয়, সাংগঠনিক পর্যায়েও এগোচ্ছে। সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। দেশের মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।