ডেটিংয়ের কথা উঠলেই কফি শপ কিংবা পানীয়ের আড্ডার ছবি চোখে ভাসে। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ায় সেই ধারণা পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে এক অভিনব উদ্যোগ। সেখানে প্রেমের সন্ধান এখন হচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিবেশে—একটি বৌদ্ধ মন্দিরে। বৌদ্ধ ভিক্ষুরাই আয়োজন করছেন এই বিশেষ ডেটিং রিট্রিট, যা চলে টানা ৩০ ঘণ্টা ধরে।
এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা প্রচলিত ডেটিং রীতিনীতি থেকে সরে এসে এক আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীকে খোঁজার চেষ্টা করেন। পুরো কর্মসূচিতে থাকে ধ্যান, নীরবতা, একত্রে নিরামিষ আহার এবং ভিক্ষুদের দেওয়া জীবনদর্শনের পাঠ। এর মাধ্যমে নিছক বাহ্যিক আকর্ষণ নয়, বরং মানসিক বন্ধন ও অভ্যন্তরীণ শান্তির ওপর জোর দেওয়া হয়।
আয়োজক ভিক্ষুরা মনে করেন, আধুনিক জীবনের তাড়াহুড়ো ও প্রযুক্তিনির্ভর সম্পর্কের চেয়ে ধীরস্থির ও অর্থপূর্ণ মিলন অনেক বেশি স্থায়ী হতে পারে। এখানে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের অনুমতি থাকে না, ফলে অংশগ্রহণকারীরা সম্পূর্ণরূপে একে অপরের সঙ্গে প্রকৃত সংযোগ স্থাপনের সুযোগ পান।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, এই ধারণা দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণ-তরুণীদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। শহুরে জীবনের একঘেয়েমি ও চাপ থেকে মুক্তি পেতে এবং একইসঙ্গে জটিলতাহীন সম্পর্ক গড়তে অনেকে এই অপ্রচলিত পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন। প্রচলিত অ্যাপ-ভিত্তিক ডেটিংয়ের কৃত্রিমতা থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তব ও আন্তরিক সম্পর্কের সন্ধানে এটি এক ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ।
প্রতিবেদনটির সাথে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, কিভাবে ভিক্ষুদের নির্দেশনায় তরুণ-তরুণীরা প্রার্থনা ও ধ্যানে বসছেন এবং এর ফাঁকে ফাঁকে একে অপরের সঙ্গে ভাব বিনিময় করছেন। আয়োজনের শেষ পর্যায়ে এসে তারা নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন, যা অনেকের কাছেই এক অনন্য জীবনের অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে।




