দিনমজুর বিবিদাস চন্দ্র রায়ের সংসারের একমাত্র ভরসা ছিল তাঁর বহু কষ্টে লালিত চারটি গরু। গরুগুলো বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ এবং জমি বন্ধক নিয়ে চাষাবাদের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু গত শুক্রবার রাতে গোয়ালঘরে লাগা আগুনে সেই স্বপ্ন ভস্মীভূত হয়েছে। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের আলেকিসামত এলাকায় রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে কেবল চারটি গরুই প্রাণ হারায়নি, বরং বসতঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক মূল্যায়নে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় চার লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, মশা তাড়ানোর জন্য গোয়ালঘরে জ্বালানো একটি কয়েল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। অগ্নিশিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং গোয়ালে বাঁধা থাকা চারটি গরু পুড়ে মারা যায়। পরবর্তী সময়ে আগুন বসতঘরেও ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণে বাঁচলেও পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই রক্ষা করতে পারেনি পরিবারের সদস্যরা। কান্নায় ভেঙে পড়া বিবিদাস চন্দ্র রায় বলেন, ‘ভগবান আমার কষ্টের ফসল কেড়ে নিলেন। এখন কী করে সংসার চালাব?’

বিবিদাস দিনমজুরি করে সংসার চালান। কয়েক বছর আগে একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়ে দুটি গরু কেনেন। পরে সেগুলো থেকে আরও দুটি বাছুর জন্ম নেয়। চারটি গরু বড় হলে বিক্রি করে ঋণের টাকা শোধ এবং কিছু জমি বন্ধক নিয়ে চাষাবাদ শুরুর পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু শুক্রবার রাতের অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে যায়।

গঙ্গাচড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চলতি দায়িত্বে থাকা স্টেশনমাস্টার আবদুল বারী জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়া হলেও রাস্তায় প্রতিবন্ধকতার কারণে পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হয়। আগুনে চারটি গরু ও বসতঘরের মালামাল পুড়ে প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, বিবিদাস অনেক কষ্ট করে এই সম্পদ গড়ে তুলেছিলেন। এক রাতেই তাঁর সব শেষ হয়ে গেছে। পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে দুই বস্তা শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে। সরকারি সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।