জুন মাসে চীনের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসার প্রত্যাশিত মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংক্রান্ত হার্ডওয়্যারের জন্য বিশ্বব্যাপী জোরালো চাহিদা এবং আসন্ন শুল্ক বৃদ্ধিকে এড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে রপ্তানিকারকদের দ্রুত পণ্য প্রেরণের প্রচেষ্টা—এই দুই সম্মিলিত ধাক্কায় চীনের রপ্তানি খাত অভূতপূর্ব গতি লাভ করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই প্রবৃদ্ধির হার ২০২১ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে এআই-এর একীকরণ যত গভীর হচ্ছে, ততই চীন থেকে উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জামের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। একই সময়ে, বিভিন্ন বাণিজ্য অংশীদার দেশ নতুন শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দেওয়ায় রপ্তানিকারকেরা সেই কর বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার আগেই সর্বোচ্চ পরিমাণ পণ্য জাহাজীকরণের কৌশল নিয়েছে। এই মিলিত প্রভাব জুন মাসের বাণিজ্য পরিসংখ্যানকে প্রত্যাশিত সীমার বহু ঊর্ধ্বে নিয়ে গেছে।

অর্থনীতিবিদেরা পূর্বে যে পরিমাণ প্রবৃদ্ধির আভাস দিয়েছিলেন, চূড়ান্ত পরিসংখ্যান তার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। চীনের শুল্ক বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, বৈদ্যুতিন যন্ত্রাংশ, সেমিকন্ডাক্টর ও অন্যান্য এআই-সংশ্লিষ্ট পণ্যের চালান উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

এই রপ্তানি ঊর্ধ্বগতির ফলে চীনের সামগ্রিক বাণিজ্য উদ্বৃত্তও সম্প্রসারিত হয়েছে। যদিও আমদানির পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও রপ্তানির এই বিস্ময়কর লাফ চীনের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ ভোগ চাহিদা এখনও পুরোপুরি পুনরুদ্ধার না হওয়ার প্রেক্ষাপটে।

প্রযুক্তি পণ্যের বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে চীনের কেন্দ্রীয় ভূমিকা এই পরিসংখ্যানে আবারও প্রকট হয়েছে। ভবিষ্যতে শুল্ক পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তার ওপর আগামী মাসগুলোর রপ্তানি গতি নির্ভর করবে বলে বাজার বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।