কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি মাংসের দোকান থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ বের হওয়ার খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবণী আক্তারের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। দোকানের ফ্রিজে ও কাউন্টারে রাখা মাংসের রং ছিল অস্বাভাবিক এবং তা থেকে অসহ্য দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদের মুখে দোকানি সালফিন মিয়া স্বীকার করেন যে তিনি বিভিন্ন উপজেলা থেকে অসুস্থ গরু কম দামে কিনে এনে জবাই করতেন এবং সেই মাংস কটিয়াদীর দোকানে এনে বিক্রি করতেন। তিনি জানান, আজ সকালে বাজিতপুর উপজেলার হুমায়ুনপুর গ্রামে একটি অসুস্থ গরু জবাই করে অটোরিকশায় করে মাংস কটিয়াদীতে নিয়ে আসেন। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি লক্ষ্য করার পর উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন। পরে প্রশাসন তৎপর হয়ে ওঠে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারা অনুযায়ী সালফিন মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি জব্দ করা হয় দোকানের সব মাংস। উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক দিদারুল আলম অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী যেখানে মাংস বিক্রি হবে, সেখানেই জবাই করতে হবে। কিন্তু সালফিন মিয়া বাজিতপুরে গরু জবাই করে কটিয়াদীতে এনে মাংস বিক্রি করছিলেন। তিনি গরুর চামড়াও দেখাতে পারেননি এবং মাংসের রংও স্বাভাবিক ছিল না। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো তিনি নিজেই অপরাধ স্বীকার করেছেন।
শাস্তির পর সালফিন মিয়া ক্ষমা চেয়ে বলেন, ভবিষ্যতে আর এমন কাজ করবেন না। তবে উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারিও একই অপরাধে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। তখনো তিনি একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং নিজেকে ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে মাংস বিক্রি করে কেউ পারে না তো, তাই শত্রু লাইগা গেছে।’ তবে ফেব্রুয়ারির জরিমানার বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়া হলে তিনি কোনো জবাব না দিয়ে ফোন কেটে দেন।
স্থানীয় ভোক্তাদের ভাষ্য, কটিয়াদীর অধিকাংশ মাংস ব্যবসায়ী জরিমানাকে ব্যবসার ঝুঁকি হিসেবেই দেখেন। তাঁরা অসুস্থ বা পঁচাবাসী গরুর মাংস বিক্রি করে অধিক লাভ করেন। বছরে এক-দুইবার ৫০ হাজার বা এক লাখ টাকা জরিমানা দিলেও সেই লাভের তুলনায় তা নগণ্য। ফলে ধরা পড়লে জরিমানা দেন, ক্ষমা চান, কিন্তু পরে আবার একই কাজে ফিরে যান। এই চক্র ভাঙতে প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


