হাঁটুর অবস্থার ওপর নির্ভর করে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা বা নামা—কোনটি বেশি কষ্টকর তা নির্ধারিত হয়। সাধারণভাবে দেখা যায়, সুস্থ অবস্থায় সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে বেশি শারীরিক শ্রম দিতে হয় এবং সহজেই শ্বাসকষ্ট বা ক্লান্তি অনুভূত হয়। অন্যদিকে, নামার সময় অনেকটা দ্রুত ও সহজে নেমে আসা যায়। তবে হাঁটুতে আর্থ্রাইটিস থাকলে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

হাঁটুর অস্থিসন্ধিতে উপস্থিত কোমলাস্থি বা কার্টিলেজের মূল কাজ হাঁটুর ওপর চাপ সহনীয় মাত্রায় রাখা। যখন এই কার্টিলেজে সমস্যা দেখা দেয়, তখন সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় চাপ নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া সঠিকভাবে কাজ করে না। ফলে হাঁটুর চাকতির নিচের অংশে সরাসরি চাপ পড়ে এবং সামান্য আর্থ্রাইটিস থাকলেও নামার সময় তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। এছাড়া রানের মাংসপেশি দুর্বল থাকলে এই যন্ত্রণা আরও বৃদ্ধি পায়।

এ সমস্যা মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পায়ের নিয়মিত ব্যায়াম। অত্যন্ত সহজ একটি ব্যায়াম হলো—সটান শুয়ে এক পা ভাঁজ করে অন্য পা মাটি থেকে পাঁচ-ছয় ইঞ্চি উপরে তুলে পায়ের মাংসপেশি শক্ত করে কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখা। এভাবে দুই পায়ে পর্যায়ক্রমে ব্যায়াম করলে রানের মাংসপেশি শক্ত ও সবল হয়। ফলে সিঁড়ি নামার সময় হাঁটুর ওপর চাপের একটি বড় অংশ রানের পেশি বহন করতে সক্ষম হয় এবং ব্যথা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

যাদের পক্ষে এভাবে পেশি শক্তিশালী করা সম্ভব নয়, তারা বিকল্প একটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন—সিঁড়ি দিয়ে পেছন ফিরে এক পা এক পা করে নামা। এতে হাঁটুর ওপর সরাসরি চাপ কম পড়ে এবং বেশিরভাগ চাপ কোমরে স্থানান্তরিত হয়। তবে এই পদ্ধতিটি ঝুঁকিপূর্ণ; অত্যন্ত সাবধানে নামতে হবে। সামান্য অসতর্কতায় উল্টে পড়ে গুরুতর আঘাত বা হাড় ভাঙার আশঙ্কা থাকতে পারে।

অনেকে মনে করেন লিফটে ওপরে ওঠার সময় শরীরের ওজন বেড়ে যায় এবং নামার সময় কমে যায়। এটি একটি প্রচলিত ধারণা মাত্র; প্রকৃতপক্ষে লিফটের গতির কারণে সাময়িকভাবে ওজনের তারতম্য অনুভূত হতে পারে, কিন্তু এর কোনো স্থায়ী প্রভাব নেই।

সার্বিকভাবে, হাঁটুর স্বাস্থ্য রক্ষায় সচেতনতা ও নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই। সিঁড়ি ব্যবহারের সময় ধীরে ও সাবধানে চলা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।