বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উপলক্ষে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ‘বর্ষবরণ’ অনুষ্ঠানে মঞ্চস্থ হয়েছে ‘ক্লান্তিযাপন’ শিরোনামের একটি নাটক। কেন্দ্রের আলোর ইশকুলের পাঠচক্রের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সাংস্কৃতিক পর্বে নাটকটি দর্শকমহলে উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলে। দশ মিনিটের এই নাট্যাংশটি রচিত হয়েছিল বাংলা সাহিত্যের কিছু বিখ্যাত চরিত্রকে কেন্দ্র করে। এর স্ক্রিপ্ট লেখেন পাঠচক্রের এক সদস্য, যিনি নিজেও প্রথমবারের মতো নাটকের জন্য লেখালেখির অভিজ্ঞতা নেন।

নাটকে স্থান পেয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের অমিত ও লাবণ্য, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কপালকুণ্ডলা’র কপালকুণ্ডলা ও নবকুমার এবং তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সপ্তপদী’র রিনা ব্রাউন ও কৃষ্ণস্বামী চরিত্র। চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেন যথাক্রমে মোতাসিম বিল্লাহ, বনোমিতা ঘোষ, সুস্মিতা সরকার, অনামিকা মণ্ডল, ফারিয়া আফরিন, হোসেন আলী, মোবাশ্বারা শশি ও শামসুর রহমান। স্ক্রিপ্ট লেখক নিজে পাঠক ও আগন্তুক নামের দুটি চরিত্রে অভিনয় করেন, যা ছিল একটি আকর্ষণীয় দিক। নাটকের প্রযোজনা ও মঞ্চসজ্জায় সহায়তা করেন আসিফ রহমান, সুস্মিতা সরকার ও জাকের আয়াত।

অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা তানিয়া আফরোজ জানান, স্ক্রিপ্ট অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রের সভাপতি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি ধারণাটি পছন্দ করেন এবং নিজেও নাটক রাখার পক্ষে ছিলেন। অনুমোদনের পর টিম ‘ক্লান্তিযাপন’ নিয়মিত মহড়া চালিয়ে যায়। নববর্ষের আগের দিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত পূর্ণ মহড়ার পর নাটকটি মূল আয়োজনের জন্য নির্বাচিত হয়। দ্বিতীয় দিনের মহড়ায় সবাই আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে, তবে স্ক্রিপ্ট অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা কেটে যায়।

পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে মঞ্চস্থ ‘ক্লান্তিযাপন’ দর্শকদের নিবিড়ভাবে আকর্ষণ করে। মিলনায়তনে পিনপতন নীরবতা বিরাজ করছিল, যা নাটকটির মান ও উপস্থাপনার স্বীকৃতি। অনুষ্ঠানের পর কেন্দ্রের নিয়মিত দর্শক অনন্ত উজ্জ্বলসহ পরিচিত-অপরিচিত অনেকেই প্রশংসা করেন। অভিনয়শিল্পীদের চরিত্রের নাম ধরে ডেকে ডেকে আবাহন জানানো হয় তাদের সাফল্যকে। শিল্পীদের ভাষ্য, এটি তাদের জীবনের প্রথম মঞ্চ অভিনয়ের স্মৃতি হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে কেন্দ্রের সভাপতি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের উপস্থিতি ও তাঁর উৎসাহ পুরো আয়োজনকে মর্যাদা দিয়েছে। ‘বর্ষবরণ’ আয়োজনে নাটকের পাশাপাশি ছিল গান, আবৃত্তি, নৃত্য, দলীয় সংগীত ও বাঁশির পরিবেশনা, যা অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন পাঠচক্রের সদস্য রুকসানা মিলি ও সাকিব চৌধুরী। পুরো আয়োজনটি কেন্দ্রের বিভিন্ন কর্মসূচির সমন্বয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হয়।