ছোট পরিসরে শুরু করা অনলাইন উদ্যোগগুলো এখন নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে ফ্যাশন জগতে। সেই ধারাবাহিকতায় অনলাইন থেকে অফলাইনে পা রাখল ‘সুতলি’ নামের একটি পোশাক প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালের মে মাসে মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বরে নিজস্ব আউটলেট খোলার মাধ্যমে নতুন অধ্যায় শুরু করে ব্র্যান্ডটি।
সুতলির উদ্যোক্তা রিফাত আনোয়ার লোপার গল্পটা শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকে। কুয়েত মৈত্রী হলে থাকাকালীন বিকেলবেলা নিউমার্কেটে ঘুরে ঘুরে ব্লকের কাজ দেখতেন তিনি। কাপড়ের রং, নকশা আর কারুকাজ দেখে মনে হতো—একদিন নিজেও এমন কিছু করবেন। ২০১৫-১৬ সালের দিকে নিজের জন্য ভালো স্টিচিংয়ের কুর্তি খুঁজতে গিয়ে সেই পুরোনো ইচ্ছা আবার জেগে ওঠে।
রিফাত বলেন, ‘নিজের জন্য ভালো মানের কুর্তি পাচ্ছিলাম না। স্বামী ও ছোট বোন তখন উৎসাহ দেন। ৫০ হাজার টাকা নিয়ে মাঠে নামি। স্বাচ্ছন্দ্যে বাজার আর অফিস—দুই জায়গাতেই মানানসই কুর্তি বানাই। প্রথম ব্যাচের কুর্তিগুলো মাত্র ২৬ দিনে বিক্রি হয়ে যায়। পরে “সুতলি” নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলি।’ কাজের পরিধি বাড়তে থাকলেও সমস্যা দেখা দেয়—প্রতিবার স্টিচিং, প্যাটার্ন ও মাপে ধারাবাহিকতা ছিল না। তখন নিজস্ব কারখানা ও দরজির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তিনি।
ধীরে ধীরে সুতলির পণ্যতালিকায় যুক্ত হয় শার্ট, পাঞ্জাবি ও শাড়ি। তবে কলম কারি কাজের প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল রিফাতের। তিনি সুতলিকে কলম কারির পণ্যের ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তাই আধুনিক রুচির সঙ্গে মিলিয়ে নতুনভাবে কলম কারি উপস্থাপনের কাজ শুরু করেন। কোভিড পরবর্তী সময়ে এই কাজে আরও নিবিড়ভাবে মনোযোগ দেন তিনি।
রিফাত জানান, ‘কোড়া কাপড় শুধু বাইরে থেকে সংগ্রহ করি; বাকি পুরো কাজ দেশেই হয়। কলম কারিতে দেশি হ্যান্ডলুম নিয়েও কাজ করছি। শাড়ি ও পোশাকের পাশাপাশি কলম কারি ব্যাগ এখন সুতলির অন্যতম জনপ্রিয় পণ্য।’ বিভিন্ন মেলায় অংশ নিয়ে তিনি লক্ষ্য করেন, মানুষ পণ্য হাতে দেখে, ছুঁয়ে, মান যাচাই করে কিনতে পছন্দ করে। তাই আউটলেটের বিকল্প নেই বলে সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৫ সালের ১১ মে মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বরে আউটলেট খোলার মাধ্যমে অনলাইন থেকে অফলাইনে যাত্রা শুরু করে সুতলি।




