বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার মিলিগ্রাম সোডিয়াম গ্রহণ নিরাপদ। সাদা লবণের (সোডিয়াম ক্লোরাইড) হিসেবে এটি প্রায় এক চা-চামচের সমান। তবে চামচে উঁচু করে বা উপচে পড়া পরিমাণ নয়; সমতলভাবে নেওয়া এক চা-চামচ লবণই ২৪ ঘণ্টার জন্য যথেষ্ট। রান্নায় ব্যবহৃত লবণ, পাতে নেওয়া লবণ এবং বিভিন্ন খাবার ও পানীয়ে থাকা সোডিয়াম—সব মিলিয়ে এই সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়।

টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ও পুষ্টিবিদ অধ্যাপক শম্পা শারমিন খান জানান, চোখে দেখা সাদা লবণ ছাড়াও অনেক খাবারে ‘লুকানো’ সোডিয়াম থাকে। পিংক সল্ট, কালো লবণ, বিট লবণসহ সব ধরনের লবণেই সোডিয়ামের মাত্রা বেশি। পটাশিয়াম-সমৃদ্ধ ‘লো সোডিয়াম’ লবণে তুলনামূলক কম থাকলেও ইচ্ছেমতো বেশি খাওয়া যায় না; দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের এটি ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। টেস্টিং সল্ট (মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট বা এমএসজি)-তেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোডিয়াম রয়েছে।

হোয়াইট সস, কেচাপ, সয়া সস, মেয়োনিজ, মাখন ও কাসুন্দির মতো উপকরণে প্রচুর লবণ মিশ্রিত থাকে। ঘরে তৈরি পনিরে লবণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হলেও বাজারজাত পনিরে তা বেশি থাকতে পারে। ইনস্ট্যান্ট নুডলস ও এর মসলার প্যাকেট, চানাচুর, চিপস, বিস্কুট বা ক্র্যাকারসেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোডিয়াম যোগ করা হয়। লোনা ইলিশ, সসেজ, নাগেটসসহ প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং রোস্টেড বাদাম বা বীজের প্যাকেটেও লবণের উপস্থিতি লক্ষণীয়। বোরহানি, টক ফলের শরবত, ওরস্যালাইন ও ইলেকট্রোলাইট ড্রিংকেও সোডিয়াম থাকে; যদিও পানিশূন্যতার ঝুঁকি থাকলে এসব পানীয় উপকারী হতে পারে।

রক্তে লবণের তারতম্য (ইলেকট্রোলাইট ইমব্যালান্স) হলে যে কেউ অসুস্থ হতে পারেন, এমনকি কখনো কখনো জীবনহানির আশঙ্কাও দেখা দেয়। অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ানোর পাশাপাশি কিডনি বৈকল্য, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি করে। অন্যদিকে, খুব কম লবণ গ্রহণও শরীরের জন্য ক্ষতিকর। হৃদ্‌বৈকল্য (হার্ট ফেইলিওর) বা লিভার বৈকল্য (লিভার ফেইলিওর) থাকা ব্যক্তিদের জন্য দৈনিক লবণ গ্রহণের পরিমাণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে নির্ধারণ করা আবশ্যক।

সুস্থ থাকতে রান্নায় পরিমিত লবণ ব্যবহার ও অতিরিক্ত লবণসমৃদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। কালেভদ্রে এসব খাবার খাওয়া হলে সেদিন অন্যান্য উৎস থেকে সোডিয়ামের পরিমাণ কমিয়ে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। কেনাকাটার সময় প্যাকেট বা কৌটার গায়ে সোডিয়ামের মাত্রা পরীক্ষা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। কাঁচা বা ভাজা—যে ধরনের লবণই হোক, সোডিয়ামের মাত্রা কমে না; তাই মোট গ্রহণের হিসাব রাখা অত্যাবশ্যক।