বর্তমানে ডিপফেক প্রযুক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহারের অন্যতম উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের কণ্ঠ ও অবয়ব নকল করে তৈরি করা এসব ভিডিও বা অডিও ক্লিপ ইন্টারনেটে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এসবের সত্যতা যাচাই করা সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ইসলাম এই ধরনের মিথ্যা প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইসলামে তথ্য যাচাইয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, 'হে মুমিনগণ, যদি কোনো পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো বার্তা নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা ভালোভাবে যাচাই করে নাও…' (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ৬)। এই নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো ভিডিও বা অডিও ক্লিপ সত্য বলে গ্রহণ করার আগে তার উৎস ও সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে মিথ্যা প্রচার ইসলামে 'গুনাহে জারিয়া' বা চলমান পাপের আধুনিক রূপ। মহানবী (সা.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি কোনো মন্দ রীতির সূচনা করবে, তার ওপর সেই মন্দ রীতির পাপ বর্তাবে এবং যারা এরপর সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদের পাপের অংশও সে পাবে…' (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০১৭)। অর্থাৎ, একটি ডিপফেক ভিডিও তৈরি করে ছেড়ে দিলে যতদিন তা মানুষকে বিভ্রান্ত করবে, ততদিন পাপ জমতে থাকবে। অন্যের সম্মানহানি ইসলামে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। কোরআনে বলা হয়েছে, 'নিশ্চয়ই যারা চরিত্রবান, সরলমনা মুমিন নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা দুনিয়া ও আখেরাতে অভিশপ্ত…' (সুরা নুর, আয়াত: ২৩)। ডিপফেকের শিকার সবচেয়ে বেশি হন নারীরা, তাদের চরিত্র হনন করা হয়।

মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর মানসিকতাকে ইসলাম মুনাফিকির লক্ষণ বলে আখ্যা দিয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, 'কোনো মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে সে যা শোনে (বা দেখে), তা-ই (যাচাই না করে) বর্ণনা করে বেড়ায়' (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫)। তাই যাচাই না করে কোনো ডিপফেক ফরোয়ার্ড করা গুনাহের কাজ। ডিপফেকের কারণে ব্যক্তি বিশেষ করে নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরি করে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। ইসলাম মানুষের রক্ত, সম্পদ ও সম্মানকে পবিত্র ঘোষণা করেছে। মহানবী (সা.) বিদায় হজের ভাষণে বলেন, 'নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের ধন-সম্পদ ও তোমাদের সম্মান তোমাদের জন্য পবিত্র (হারাম)' (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৭)।

সুতরাং, এআই যুগে সততা বজায় রাখা ও তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য। স্ক্রিনে যা দেখা যায় সব সত্য নয়, এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। অন্যথায় সাময়িক সুবিধা বা প্রতিশোধ নিতে গিয়ে চিরস্থায়ী ক্ষতি ডেকে আনা সম্ভব। প্রতিটি তথ্য শেয়ারের আগে যাচাই করা এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।