ইসলামী বিশ্বাসমতে, রাতের শেষ তৃতীয়াংশ একটি অমূল্য সময়, যখন আল্লাহ নিজেই তাঁর বান্দাদের ডাকেন। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, এই সময় তিনি প্রথম আকাশে নেমে আসেন এবং ঘোষণা করেন—কে তাঁর কাছে প্রার্থনা করবে, তিনি তা কবুল করবেন; কে কিছু চাইবে, তিনি তা দান করবেন; আর কে ক্ষমা চাইবে, তিনি তাকে ক্ষমা করে দেবেন। এই আহ্বান প্রতিটি রাতেই উচ্চারিত হয়, কিন্তু অনেকেই সেই ডাক শুনতে পান না। এক সাম্প্রতিক ধর্মীয় নিবন্ধে এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। নিবন্ধে বলা হয়েছে, কোরআনের সুরা মুজ্জাম্মিলের শুরুর আয়াতে মহানবী (সা.)-কে রাতে জাগ্রত হয়ে ইবাদত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেখানে ‘তারতিল’ শব্দের মাধ্যমে কোরআন ধীরে ও অর্থ বুঝে পাঠের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞানও বলছে, রাতের শেষ প্রহরে মানুষের মস্তিষ্ক সর্বাধিক শান্ত থাকে এবং গভীর মনোযোগের জন্য এটি আদর্শ সময়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই সময়ে আধ্যাত্মিক চর্চা মানসিক চাপ হ্রাস করে, কর্মে একাগ্রতা বাড়ায় এবং দিনের বাকি অংশকে আরও উৎপাদনশীল করে তোলে। সুরা মুজ্জাম্মিলের পরবর্তী আয়াতে বলা হয়েছে, রাতের ইবাদত মনকে দৃঢ়ভাবে প্রভাবিত করে এবং কোরআনের বাণী হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে দেয়। এখানে ‘ওয়াতআ’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যার অর্থ পা রাখা বা ছাপ ফেলা, অর্থাৎ রাতের ইবাদত মনের ওপর স্থায়ী প্রভাব ফেলে। আর ‘নাশিআত’ শব্দটি ইঙ্গিত দেয় যে এই ইবাদত মানুষের ভেতরে এমন কিছু জাগিয়ে তোলে, যা দিনের বেলায় সম্ভব হয় না। কোরআনের আরও কয়েকটি জায়গায় রাতের ইবাদতের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। সুরা জারিয়াতে জান্নাতি ব্যক্তিদের গুণ বর্ণনা করতে বলা হয়েছে যে তারা ‘রাতের শেষ প্রহরে ক্ষমা প্রার্থনা করে’। সুরা বনি ইসরাইলে তাহাজ্জুদ নামাজকে ‘অতিরিক্ত ইবাদত’ হিসেবে চিহ্নিত করে এর পুরস্কার হিসেবে ‘প্রশংসিত স্থান’ (মাকামে মাহমুদ) ঘোষণা করা হয়েছে। সুরা জুমারে প্রশ্ন করা হয়েছে—যে ব্যক্তি রাতে সিজদা ও দাঁড়িয়ে ইবাদত করে, আখিরাতকে ভয় করে ও আল্লাহর রহমতের আশা রাখে, সে কি তার সমান যে এসব করে না? নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় সিজদার সময়।’ তাই রাতের নীরবতায় নামাজে দাঁড়িয়ে বা সিজদায় মাথা রেখে আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করলে হৃদয়ের শূন্যতা দূর হয়। লেখকের মতে, ফোনের স্ক্রিনের একঘেয়েমি ও অস্থিরতা কাটানোর সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে এই রাতের উপাসনা। নিবন্ধটিতে আরও বলা হয়েছে, রাতের শেষ প্রহরে জেগে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা ও ক্ষমা চাওয়া বান্দার জন্য অশেষ সৌভাগ্যের বিষয়। কোরআন ও হাদিসের আলোকে বোঝা যায়, এই সময়টি আধ্যাত্মিক উন্নতি ও আত্মশুদ্ধির জন্য অত্যন্ত উর্বর।