২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য রসায়ন দ্বিতীয় পত্রের প্রস্তুতি নির্দেশনা প্রকাশিত হয়েছে। কলেজ অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের সহযোগী অধ্যাপক তাপসী বণিক পরীক্ষার কাঠামো ও সিলেবাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

পরীক্ষায় মোট ৭৫ নম্বরের লিখিত অংশ থাকবে। এরমধ্যে সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য ৫০ নম্বর এবং বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য ২৫ নম্বর বরাদ্দ। ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৫ নম্বরের। সৃজনশীল অংশে আটটি প্রশ্নের পাঁচটির উত্তর দিতে হবে। পূর্ণ সিলেবাসের ওপর ভিত্তি করে পাঁচটি অধ্যায় থেকে প্রশ্ন আসবে।

প্রথম অধ্যায়ে পরিবেশগত গ্যাস সূত্র—বয়েল, চার্লস, গে-লুসাক, অ্যাভোগেড্রো ও গ্রাহামের সূত্র—পড়তে হবে। এছাড়া STP, NTP, SATP, প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি দূষক, TDS, DO, BOD, COD, পানির pH, স্থায়ী ও অস্থায়ী ক্ষমতা, আইসোথার্ম, আইসোবার, আইসোকোর, পরম শূন্য তাপমাত্রা, বিভিন্ন এককে R-এর মান, নাইট্রোজেন ফিক্সেশন, অ্যাসিড বৃষ্টির কারণ ও প্রতিকার, অম্লের ক্ষারকত্ব, ক্ষারকের অম্লত্ব, উভধর্মী পদার্থ ও অনুবন্ধী অ্যাসিড-ক্ষারক ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। সৃজনশীল ‘গ’ ও ‘ঘ’ অংশে অণু সংখ্যা নির্ণয়, গ্যাসের প্রকৃতি (আদর্শ বা বাস্তব) নির্ণয়, মোট চাপের সাপেক্ষে আংশিক চাপ, মোল ভগ্নাংশ, ব্যাপন হারের তুলনা এবং অনুবন্ধী অ্যাসিড-ক্ষারকের তীব্রতার তুলনা আসবে।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে জৈব রসায়নের বিভিন্ন বিষয় যেমন সমাণুতা, কার্যকরী মূলক, মেটামারিজম, টটোমারিজম, কাইরাল কার্বন, এনানসিওমার, রেসিমিক মিশ্রণ, মেসো যৌগ, ডায়াস্টেরিও আইসোমার, জ্যামিতিক ও আলোক সমাণুতা, কার্বনিল মূলক শনাক্তকরণ, ক্লোরোফর্ম সংরক্ষণ পদ্ধতি, মিথানল, ইথানল, অ্যালডিহাইড, কিটোন, ফেনল, কার্বক্সিলিক মূলক, অ্যামিন শনাক্তকরণ, জুইটার-আয়ন, কার্বিল-অ্যামিন বিক্রিয়া, DDT, অসম্পৃক্ততা পরীক্ষা, অক্সি-অ্যাসিটিলিন শিখা, পিকরিক অ্যাসিড, কার্বলিক অ্যাসিড ও অ্যারোমাটিসিটি সম্পর্কে পড়তে হবে। ‘গ’ ও ‘ঘ’ অংশে অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের পার্থক্য, SN1 ও SN2 বিক্রিয়ার মেকানিজম, গ্রিগনার্ড বিকারক থেকে অ্যালকেন, অ্যালকোহল ও জৈব অ্যাসিড উৎপাদন, অ্যালকিনের ওজোনীকরণ এবং অ্যালডিহাইড ও কিটোনের সক্রিয়তার তুলনা পরীক্ষায় আসবে।

তৃতীয় অধ্যায়ের ‘ক’ ও ‘খ’ অংশে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ, টাইটার, টাইট্রান্ড, প্রমাণ দ্রবণ, টাইট্রেশন, নির্দেশক নির্বাচন, মোলার দ্রবণ, সেমি ও ডেসি মোলার দ্রবণ, প্রশমন বিন্দু, শেষ বিন্দু, বিয়ার-ল্যাম্বার্ট সূত্র, জারক-বিজারক, জারণ সংখ্যা ও তার নির্ণয় পড়তে হবে। ‘গ’ ও ‘ঘ’ অংশে দ্রবণের pH নির্ণয়, মিশ্র দ্রবণের pH এবং নির্দেশক নির্বাচন সম্পর্কিত প্রশ্ন থাকবে।

চতুর্থ অধ্যায়ে পরিবাহী, তড়িৎ বিশ্লেষণ, পরিবাহিতার প্রকারভেদ, তাপে ধাতুর পরিবাহিতা হ্রাসের কারণ, ফ্যারাডের সূত্র, তড়িৎ রাসায়নিক ও রাসায়নিক তুল্যাঙ্ক, তড়িৎ দ্বার, অ্যানোড-ক্যাথোড, ইলেক্ট্রোলাইট, দুর্বল ও তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য, লবণ সেতুর ভূমিকা, তড়িৎ বিশ্লেষণ, রেডক্স বিক্রিয়া, আয়নসমূহের জারণ-বিজারণ তুলনা, ফুয়েল সেল, লিথিয়াম আয়ন ও লেড ব্যাটারির তুলনা, শুষ্ক কোষ, অর্ধকোষ ও কোষ বিক্রিয়া, প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি সেল সম্পর্কে জানতে হবে। ‘গ’ ও ‘ঘ’ অংশে তড়িৎদ্বারে জমাকৃত ধাতুর ভর ও পরমাণু সংখ্যা নির্ণয়, তড়িৎপ্রবাহের পর দ্রবণের ঘনমাত্রা, তড়িৎচালক বলের মান, ধাতু সংরক্ষণের গাণিতিক প্রমাণ, নার্নস্টের সমীকরণভিত্তিক অঙ্ক এবং হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলের উপকারিতা আসবে।

পঞ্চম অধ্যায়ের ‘ক’ ও ‘খ’ অংশে প্রাকৃতিক গ্যাস, এলপিজি, কয়লার প্রকারভেদ ও বৈশিষ্ট্য, কয়লার বিশুদ্ধতার মানদণ্ড, প্রডিউসার গ্যাস, ওয়াটার গ্যাস, উড গ্যাস, কাচের উপাদান, অ্যানিলিং, কুলেট, মুলাইট, বিস্কুট ফায়ারিং, পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট, জিপসাম, লেদার ট্যানিং, ন্যানো পার্টিক্যাল এবং কয়লাশিল্পের উপকারিতা ও অপকারিতা পড়তে হবে। ‘গ’ ও ‘ঘ’ অংশে অ্যামোনিয়া থেকে ইউরিয়া সার উৎপাদন, অ্যামোনিয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকি, কাচের উৎপাদন ও শ্রেণিবিন্যাস, সিরামিক উৎপাদন ও গ্লেজিং এবং কাগজ উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব বিষয়ক প্রশ্ন থাকবে।

তাপসী বণিকের মতে, উপরোক্ত সমস্ত অংশ পুনরালোচনা করলে পরীক্ষার্থীরা সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনি বিভাগে ভালো ফল করতে সক্ষম হবে।